বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মুখ্যমন্ত্রীর জলপাইগুড়ি জেলা সফরের মাঝেই উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বড়সড় উত্তেজনা। ধূপগুড়ি মহকুমার বিন্নাগুড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন ধরে বিজেপিতে (BJP) যোগ দিলেন ১৫০-রও বেশি পরিবার। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বিন্নাগুড়িতে বিজেপির (BJP) নতুন দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন
ধূপগুড়ি মহকুমার বিন্নাগুড়িতে শনিবার সন্ধ্যায় বিজেপির (BJP) নতুন দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শক্তি প্রদর্শন করে ভারতীয় জনতা পার্টি। আলিপুরদুয়ার জেলা সভাধিপতি মিঠু দাস ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে কয়েকশো বিজেপি কর্মী ও স্থানীয় মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এই অনুষ্ঠানেই ঘটে যায় বড় রাজনৈতিক ঘটনা। দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেতা উমেশ যাদব তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে (BJP) যোগ দেন। তাঁর সঙ্গে পাপ্পু শর্মা-সহ মোট ১৫০টিরও বেশি পরিবারের সদস্য বিজেপিতে নাম লেখান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে ওঠে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ি জেলা সহ-সভাধিপতি পুনীতা ওরাঁও লাকড়া, প্রবীণ নেতা রামবিলাস গোয়েল, অরুণ কুমার সিং, মণ্ডল সম্পাদক রাহুল ওরাঁও, সন্তোষ মিশ্র, বিজেপি বুথ সভাপতি বিষ্ণু রায়, পঞ্চায়েত সদস্য সুভদ্রা লোহার, মণ্ডল সভাপতি শান্তি মাহাতো, বুবাই নন্দী ওরফে কৌশিক নন্দী, বিনেশ লাকড়া, সুনীল মুন্ডা ও খুশবু মিশ্র প্রমুখ।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অরাজকতার অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, রাজ্যের মানুষ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে সরকার পরিবর্তন অনিবার্য।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি রাজেশকুমার সিং বলেন, “নির্বাচনের আগে এই ধরনের খেলা হয়। যায় আসে। উমেশ যাদব ভাল নেতা ছিলেন। নেতৃত্বের সঙ্গে কথা হবে। তৃণমূল একটা বড় পরিবার। অনেকে পদের লোভে যোগ দেন। লাভ-ক্ষতির হিসেব নয়, আমরা চেষ্টা করছি ফিরিয়ে আনার।” অন্যদিকে, উমেশ যাদব বলেন, “আমার বিন্নাগুড়ি ছেড়ে চলে যাওয়াটা ভাল সিদ্ধান্ত ছিল না। দলের অগ্রগতির জন্যই ফেরত এসেছি। আমি চাই ছাব্বিশে আমাদেরই সরকার হোক।” উল্লেখ্য, উমেশ যাদব আগে বিজেপিতে (BJP) ছিলেন, পরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ চ্যালেঞ্জের মুখে রাজস্ব বৃদ্ধি, কলকাতা পুরসভায় সম্পত্তি কর নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকলেন মেয়র
এই যোগদান প্রসঙ্গে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি (BJP) সভাপতি মিঠু দাস বলেন, “আজ পরিষ্কার, তৃণমূলের বিসর্জন নিশ্চিত। মানুষের সরকার গঠন করতেই ওঁরা বিজেপিতে যোগদান করেছেন।”












