বাংলাহান্ট ডেস্ক: হস্টেলের পাতলা ডাল, ট্যালট্যালে ঝোল এরকম খবর খেতে যে কারোরই পছন্দ না তা বহুবার শোনা গেছে। কিন্তু সেই খাবারই যে কাউকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে সাফল্যের (Success Story) একবারে চূঁড়ায় নিয়ে যেতে পারে তা হয়তো অনেকেই শোনেননি। হরিয়ানার সিরসা জেলার মান্ডি দাবওয়ালির বাসিন্দা মৃণাল শেট্টি প্রথাগত পেশার পথ ছেড়ে একেবারে ভিন্ন এক সিদ্ধান্ত নিয়ে আজ সফলতার শিখরে পৌঁছেছেন। আইন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর যেখানে অধিকাংশই আদালতের পথে হাঁটেন, সেখানে তিনি বেছে নেন রান্নাঘর। ২০২০ সালে তিনি ‘ডক্টর ডায়েট’ নামে একটি স্টার্টআপ শুরু করেন, যার মূল লক্ষ্য সাশ্রয়ী দামে উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত স্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহ করা। হোস্টেল জীবনের অস্বাস্থ্যকর খাবারই তাঁকে এই ভাবনার দিকে ঠেলে দেয়।
মৃণালের অনন্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
চণ্ডীগড় থেকে এলএলবি পাশ করার পর পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে ইন্টার্নশিপের সময়ই তিনি বুঝতে পারেন, আইন পেশা তাঁর জন্য নয়। ফিটনেসের প্রতি আগ্রহ এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের অভাব তাঁকে নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা দেয়। নিজের জমানো টাকা থেকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে চণ্ডীগড়ের একটি ছোট ঘর থেকেই তিনি ‘ডক্টর ডায়েট’-এর যাত্রা শুরু করেন। প্রথম দিকে তিনি নিজেই রান্না করতেন এবং সাইকেলে করে গ্রাহকদের কাছে খাবার পৌঁছে দিতেন।
আরও পড়ুন: যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই হঠাৎ ফোন, মোদীর বিদেশ নীতির কাছে ঝুঁকলেন ট্রাম্প!
তবে তাঁর শুরুর জার্নিটা মোটেও সহজ ছিল না। ২০২০ সালের লকডাউনে তাঁর ব্যবসা থমকে যায়। কয়েক মাস পর ফিরে এসে তিনি দেখেন, দোকানটি নষ্ট হয়ে গেছে। এক সময় তিনি সব ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবেন। কিন্তু বাড়িওয়ালার সমর্থন তাঁকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস দেয়। ভাড়া মওকুফ এবং সময় দেওয়ার ফলে তিনি ২০২১ সালে আবার নতুন করে শুরু করেন এবং আরও পরিকল্পিতভাবে ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যান।
নতুনভাবে শুরু করে তিনি ‘ক্লিন মিলস’ ধারণা চালু করেন, যেখানে প্রতিটি খাবারের ক্যালোরি, প্রোটিন ও ফ্যাটের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়। তাঁর জনপ্রিয় ‘স্টাফড চিকেন ব্রেস্ট’ খাবারটি কম দামে উচ্চ প্রোটিনের জন্য দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে চণ্ডীগড়, দিল্লি-এনসিআর এবং বেঙ্গালুরু মিলিয়ে তাঁর ১৪টি আউটলেট রয়েছে এবং প্রতিদিন ২৫০০-রও বেশি খাবার সরবরাহ করা হয়। তাঁর এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই বছরে ১০ কোটিরও বেশি টার্নওভার ছুঁয়েছে।

আরও পড়ুন: হয়ে যান সতর্ক! শেষ মুহূর্তে টিকিট বাতিলে বড় ধাক্কা, ৮ ঘণ্টার মধ্যে ক্যানসেলে মিলবে না আর রিফান্ড
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও জ্বালানি সংকটের মাঝেও তাঁর ব্যবসা থেমে থাকেনি। বরং তিনি তাঁর ক্লাউড কিচেনকে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ও স্বয়ংক্রিয় করে তুলেছেন, যা তাঁকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রেখেছে। বর্তমানে তাঁর সংস্থা ১৫-১৬ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার দিকে এগোচ্ছে। ভবিষ্যতে পুনে, হায়দ্রাবাদ এবং মুম্বইয়ের মতো শহরে ব্যবসা বিস্তার করে একটি এত বড় এবং সফল (Success Story) ফুড ব্র্যান্ড গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।












