বাংলাহান্ট ডেস্ক: দূরপাল্লার ট্রেনের কনফার্মড টিকিট বাতিলের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন ভারতীয় রেলের (Indian Railways)। যাত্রী পরিষেবা উন্নত করা এবং আসন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। মঙ্গলবার তিনি জানান, রেলের আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে একাধিক সংস্কার আনা হচ্ছে, যার মধ্যে টিকিট বাতিল সংক্রান্ত নিয়মের বদল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
দূরপাল্লার ট্রেনের কনফার্মড টিকিট বাতিলের নিয়ম বদল রেলের (Indian Railways)
নতুন প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, ট্রেন ছাড়ার ৮ ঘণ্টা বা তার কম সময় আগে কনফার্মড টিকিট বাতিল করলে যাত্রীরা আর কোনও ভাড়া ফেরত পাবেন না। আগে এই সময়সীমা ছিল ৪ ঘণ্টা। অর্থাৎ, শেষ মুহূর্তে টিকিট বাতিলের প্রবণতা কমাতে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। রেলের মতে, অনেক যাত্রী শেষ মুহূর্তে টিকিট বাতিল করায় আসন খালি থাকলেও তা অন্য যাত্রীদের কাজে লাগে না, ফলে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: চার দশক পেরিয়ে খুলল পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রত্নভাণ্ডারের অন্দরমহল! কী মিলল ভেতরে?
অন্যদিকে, আগে থেকে টিকিট বাতিল করলে ফেরতের সুযোগও রাখা হয়েছে নতুন নিয়মে। ট্রেন ছাড়ার ৭২ ঘণ্টা আগে টিকিট বাতিল করলে যাত্রীরা প্রায় পুরো ভাড়া ফেরত পাবেন, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট বাতিল ফি কেটে নেওয়া হবে। ৭২ ঘণ্টা থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করলে ২৫ শতাংশ ভাড়া কাটা হবে, আর ২৪ ঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করলে ৫০ শতাংশ ভাড়া কেটে বাকি টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ট্রেন ছাড়ার ৪ ঘণ্টা আগে সংরক্ষিত আসনের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হয়। আগে এই সময়ের মধ্যে টিকিট বাতিল করলে কিছু অর্থ ফেরত পাওয়া যেত, তবে ৪ ঘণ্টা বা তার কম সময় আগে বাতিল করলে কোনও ফেরত মিলত না। এবার সেই সময়সীমা ৮ ঘণ্টা করা হচ্ছে, যাতে রেল আরও কার্যকরভাবে আসন বণ্টন করতে পারে এবং অপেক্ষমাণ তালিকার যাত্রীরা সুবিধা পান।

আরও পড়ুন: সোশ্যাল মিডিয়ায় KYC বাধ্যতামূলক হতে পারে! ভুয়ো প্রোফাইল ঠেকাতে সংসদীয় কমিটির বড় সুপারিশ
রেলের (Indian Railways) তরফে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই বন্দে ভারত এক্সপ্রেস এবং অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে এই নিয়ম চালু রয়েছে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে অন্যান্য ট্রেনেও এই নিয়ম কার্যকর করা হতে পারে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যাত্রীদের পরিকল্পিত ভ্রমণে উৎসাহ দেওয়া এবং শেষ মুহূর্তের বিশৃঙ্খলা কমানোই রেলের প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।












