গোটা বিশ্বকে চমকে দিলেন মুকেশ আম্বানি! Google-Microsoft সহ ১৫ টি সংস্থার সঙ্গে মেলালেন হাত

Published on:

Published on:

Mukesh Ambani shocked the whole world.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: প্রযুক্তির জগতে এবার একটি অত্যন্ত বড় এবং ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। যা ভবিষ্যতে ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল পরিষেবার ওপর প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব ফেলবে। মূলত, জার্মানিতে সম্পন্ন হওয়া ‘মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্স’-এর আবহে বিশ্বের ১৫ টি বৃহত্তম এবং প্রভাবশালী প্রযুক্তি কোম্পানি একসঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এই কোম্পানিগুলি একসঙ্গে ‘ট্রাস্টেড টেক অ্যালায়েন্স’ (TTA) গঠনের ঘোষণা করেছে। এটি ভারতের জন্যও একটি গর্বের মুহূর্ত। কারণ, ভারত তথা এশিয়ার বৃহত্তম শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির (Mukesh Ambani) কোম্পানি ‘জিও প্ল্যাটফর্ম’-ও এই গ্লোবাল গোষ্ঠীতে একটি বিশিষ্ট স্থান পেয়েছে।

বাজিমাত মুকেশ আম্বানির (Mukesh Ambani):

কোন কোন কোম্পানি এই ‘সুপার-গ্রুপ’-এর অংশ: জানিয়ে রাখি যে, এই নতুন জোটে যোগদানকারী কোম্পানিগুলির তালিকা অত্যন্ত বিস্তৃত। যেটিতে আমেরিকা থেকে শুরু করে এশিয়া ইউরোপ এবং আফ্রিকার টেকনোলজি লিডাররা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ট্রাস্টেড টেক অ্যালায়েন্সে গুগল ক্লাউড সহ মাইক্রোসফ্ট এবং অ্যামাজনের AWS-এর মতো ক্লাউড কম্পিউটিং সংস্থাগুলির পাশাপাশি অ্যানথ্রপিক এবং কোহেরের মতো AI কোম্পানিগুলিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও টেলিকম এবং হার্ডওয়্যার জগত থেকে, এরিকসন, নোকিয়া এবং এনটিটির মতো কোম্পানিগুলি যুক্ত রয়েছে। এছাড়াও, কাসাভা টেকনোলজিস, র‍্যাপিডাস, হানওয়া, এনস্কেল, সাব এবং SAP-ও এই উদ্যোগে যোগদান করেছে। এদিকে, ভারত থেকে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিটাল শাখা ‘জিও প্ল্যাটফর্মস’-এর অন্তর্ভুক্তি এটাই স্পষ্ট করে যে, বিশ্ব প্রযুক্তি মানচিত্রে ভারতের অবস্থান কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

Mukesh Ambani shocked the whole world.

এমন জোটের প্রয়োজন: বর্তমান বিশ্বে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রযুক্তি এত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে এটির ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের আবির্ভাব ডেটা সুরক্ষা এবং গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই ‘বিশ্বাসের ঘাটতি’ মোকাবিলা করার জন্যই এই জোট তৈরি করা হয়েছিল। এই জোটের প্রাথমিক লক্ষ্য হল এমন একটি ‘টেকনোলজি স্ট্যাক’ তৈরি করা, যা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং নিরাপদ। এর অর্থ হল ইন্টারনেট কানেকটিভিটি থেকে শুরু করে ক্লাউড স্টোরেজ, মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর চিপ, সফটওয়্যার, AI সবকিছুর জন্য একটি একক মান প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সমগ্র বিশ্ব এটিকে চোখ বন্ধ করে ভরসা করতে পারবে। এর ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। কারণ, এর মাধ্যমে তাঁরা আরও নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য পরিষেবা পাবেন।

আরও পড়ুন: ১ বছরে ৪২৯ শতাংশের রিটার্ন! আপনার পোর্টফোলিওতে আছে নাকি এই স্টক?

ভারতের জন্য জিওর অংশগ্রহণ তাৎপর্যপূর্ণ: এদিকে, এই জোটে জিও প্ল্যাটফর্মের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে ভারত এখন আর কেবল প্রযুক্তির গ্রাহক নয়, বরং একটি নির্ভরযোগ্য স্রষ্টা এবং নিয়ন্ত্রকও। জিওর সিইও কিরণ থমাস এই অনুষ্ঠানে বলেন যে, বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল বৃদ্ধির জন্য বিশ্বাসযোগ্য এবং স্বচ্ছ প্রযুক্তি অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন যে, জিও এই জোটের অংশ হতে পেরে এবং প্রযুক্তির মান উন্নত করতে অবদান রাখতে পেরে গর্বিত।

আরও পড়ুন: থাকবেনা বৈষম্য! জেনারেল কোচের যাত্রীদের সুবিধার্থে বড় পদক্ষেপ রেলের, সুষ্ঠুভাবে হবে সফর

এই জোট নিশ্চিত করবে যে, প্রযুক্তি কেবল লাভের জন্য ব্যবহার করা হবে না। বরং এর সুবিধাগুলি সারা বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছবে। এছাড়াও, ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে সমাজে যেকোনও নেতিবাচক প্রভাব রোধ করার জন্য এই সমস্ত কোম্পানিগুলি সাধারণ নীতির ওপরেও কাজ করবে।