বাংলা হান্ট ডেস্ক : প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের জন্য টেট (TET) বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি ঘিরে নতুন করে ক্ষোভ প্রকাশ করল একাধিক শিক্ষক সংগঠন। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট ২০১০ সালের শিক্ষার অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার আগে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের টেট পাশ করার জন্য অতিরিক্ত এক বছরের সময় দিলেও, কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান এখনও পরিষ্কার নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে টেট সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার আন্দোলনে শামিল হল আটটি বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন।
টেট (TET) জটিলতা
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে শিক্ষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষক সংগঠনগুলি এখন কেন্দ্র ও রাজ্য—দুই সরকারের কাছেই টেট প্রশ্নে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত ঘোষণার দাবি জানিয়েছে।
পাশাপাশি ২০১৭ সালে নিয়োগ পাওয়া ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর করা, কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতা প্রদান এবং সপ্তম বেতন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবিও তাদের আন্দোলনের অন্যতম অংশ। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, দেশের প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের টেট উত্তীর্ণ হওয়া আবশ্যিক। আদালত প্রথমে নির্দেশ দিয়েছিল, যাঁরা এখনও টেট পাশ করেননি, তাঁদের ২০২৭ সালের মধ্যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। পরে সেই সময়সীমা আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে।তবে যাঁদের অবসরের জন্য আর পাঁচ বছরের কম সময় বাকি, তাঁদের ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এদিন দুপুরে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে মিছিল শুরু করে কলেজ স্কোয়ারে গিয়ে অবস্থান-বিক্ষোভে অংশ নেয় নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতি, বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতিসহ মোট আটটি সংগঠন। আন্দোলনরত শিক্ষকদের একাংশের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার অবিলম্বে অর্ডিন্যান্স জারি করে টেট-সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান করুক।

আরও পড়ুন : আরও বাড়ল অভিষেকের বিপদ! হাজিরার নির্দেশ দিয়ে সমন পাঠাল ত্রিপুরার আদালত
তাঁদের হুঁশিয়ারি, এই দাবি উপেক্ষিত হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এবিপিটিএ–র সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল বলেন, “আমাদের দাবি, এই টেট জট থেকে দুই সরকার আমাদের মুক্তি দিক। একাধিকবার সরকারের কাছে এই দাবি জানানো হয়েছে। আজও সেই দাবিই রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারকে দ্রুত অর্ডিন্যান্স জারি করতে হবে।”













