বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলার নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ফলাফলের পর সোমবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে এক অন্য রূপে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সাদা পাঞ্জাবি, ঘিয়ে রঙের তসর সিল্কের ধুতি, গলায় উত্তরীয়, সব মিলিয়ে যেন একেবারে বাঙালি সাজে বিজেপি সদর দপ্তরের মঞ্চে উঠলেন তিনি। হাঁটার সময় ধুতির কোঁচা সামলাতে সামান্য অসুবিধা হলেও তাঁর মুখে ছিল স্পষ্ট আত্মবিশ্বাসের হাসি, যা বাংলার নির্বাচনী ফলের প্রতিফলন বলেই মনে করছেন অনেকেই।
বাংলায় বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর বাঙালি সাজে মোদী (Narendra Modi):
মঞ্চে মোদীর এই উপস্থিতির সময় দর্শকাসনে আবিরে রাঙা হয়ে বসেছিলেন বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্ব, তাঁদের মধ্যে ছিলেন শমীক ভট্টাচার্য সহ অনেকে। তাঁদের সামনেই দলের কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল আজ দেশের বিজেপি সমর্থকদের মুখে ফুটে উঠেছে। এই জয়কে তিনি দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বাংলা-সহ পাঁচ রাজ্যের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
আরও পড়ুন: ১৫ বছর পর ফের পালাবদল বঙ্গে! কোন ম্যাজিকে জয় হাসিল বিজেপির?
ভাষণে মোদী উল্লেখ করেন, বিহার নির্বাচনের সময়ই তিনি বলেছিলেন গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত পদ্ম ফুটবে, আর সেই ভবিষ্যদ্বাণী আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, বিহার ও ওড়িশার পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি ক্ষমতায় আসছে। একই সঙ্গে স্মরণ করেন শ্যামাপ্রসাদকে। তাঁর কথায়, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা যে শক্তিশালী বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা আজ বাস্তবায়নের পথে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গও। তিনি বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে স্মরণ করেন এবং দাবি করেন, এই জয় সেই ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। পাশাপাশি তিনি জানান, বাংলায় বিজেপি কর্মীরা, বিশেষ করে মহিলারা, দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। এই সাফল্য তিনি সেই সব শহিদ কর্মীদের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন।

আরও পড়ুন: ভবানীপুরেও গেরুয়া ঝড়! ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে মমতাকে পরাজিত করলেন শুভেন্দু অধিকারী
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন মোদী (Narendra Modi)। তিনি বলেন, বাংলায় নতুন সূর্যোদয় ঘটেছে এবং উন্নয়নের পথে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। মহিলাদের নিরাপত্তা, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করার কথাও জানান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ভয়মুক্ত সমাজ গড়াই তাঁদের লক্ষ্য। পাশাপাশি ‘বদলা নয়, বদল’-এর বার্তা দিয়ে তিনি সকলকে বিভেদ ভুলে বাংলার উন্নয়নে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।













