বাংলা হান্ট ডেস্ক: উন্নয়ন কর্মসূচি সময়মত কার্যকর করার জন্য শাসক দল পঞ্চায়েতে অনাস্থা আনার সময়সীমা সংশোধন করার প্রস্তাব আনলো বিধান সভায় (West Bengal Assembly)। গ্রাম উন্নয়নের ত্রিস্তরে বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের, একটা নির্দিষ্ট সময় দেওয়া প্রয়োজন। কারণ নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দেওয়া উন্নয়নমূলক কাজগুলি বাস্তবায়িত করতে যথেষ্ট সময় লাগে। আর প্রকল্পের বরাদ্দ বছরের শুরুতে আসে তাই এই প্রস্তাব আনলো শাসক দল।
পঞ্চায়েতে অনাস্থা আনার সময়সীমা সংশোধনের প্রস্তাব বিধান সভায় (West Bengal Assembly)
পঞ্চায়েত আইন সংশোধন বিল কতটা কার্যকারী তা বোঝানোর জন্য পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন মানুষ তাদের নির্বাচনী রায়ে জনপ্রতিনিধিদের পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করে পাঠান। বস্তুত সেই কারণে মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়ে উন্নয়নের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সময় দিতে অনাস্থা আনার সময় বাড়িয়ে আড়াই থেকে তিন বছর করা হলো। কিন্তু এই বিলের বিতর্কে অংশ নিয়ে বিধানসভা অধিবেশনে বিজেপির বিধায়ক অরূপ দাস অভিযোগ করেন ভোটের আগে নিজেদের দলের কোন্দল আড়াল করতে, ইচ্ছা করেই শাসক দল অনাস্থার মেয়াদ বাড়িয়ে তিন বছর করলো। বিজেপির আরো অভিযোগ যে এই সরকার ক্ষমতায় এসে গ্রাম সভা এবং শহরের ওয়ার্ড কমিটি গুলিকে তুলে দিয়েছে।
পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার এই বিলের স্বপক্ষে বলেন ‘কেন্দ্রীয় সরকারের ধারাবাহিক বঞ্চনা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার গ্রামীণ উন্নয়ন শুধু থামতে দেন নি, তাই নয় উল্টে গোটা দেশে অনন্য নজির তৈরি করেছেন। তার কর্মযজ্ঞের ধারা প্রবাহে আরো গতি বাড়াতে অনাস্থা আনার মেয়াদ বাড়িয়ে তিন বছর করে দেওয়া যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য’। তৃণমূলের অপর দুই বিধায়ক অপূর্ব সরকার ও সমীর জানা জানিয়েছেন বিজেপি বিধায়করা বাংলার গ্রামের কোন খবরই রাখেন না। প্রতিটি গ্রামে শীতের ফসল ঘরে ওঠার পরই ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়ম করে পঞ্চায়েতে গ্রাম সভা হয়। সেখানে এলাকার মানুষের দাবি মেনে উন্নয়নের সমস্ত প্রকল্প তুলে ধরে বাজেটে উল্লেখ করে পাশ করানো হয়।
আরও পড়ুন:DA বকেয়া কারা পাবেন? কোন সময়ের টাকা দেওয়া হবে, সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা জানাল সুপ্রিম কোর্ট
২০১৫ সালে এই অনাস্থা আনার মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে আড়াই বছর করা হয়েছিল। এবারে সেটাকে তিন বছর করা হলো। তবে বিলটি এদিন পাস হলো, রাজ্যপাল সম্মতি দিলে তবেই তা আইনে পরিণত হবে। প্রদীপ মজুমদার এর মতে অনেকেই নতুন নির্বাচিত হয়ে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে নানা দায়িত্ব নেয়। ডিসেম্বর মাসে ফসল উৎপাদনের পর পুরোপুরি উন্নয়নের কাজে তারা সময় দিতে পারবে।
আরও পড়ুন:খাস কলকাতায় নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ, ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে একা ঘরে নিয়ে…

আর্থিক বরাদ্দ এবং ফসল উৎপাদনের পর উন্নয়নের কাজে সময় দেওয়া, এই দুইয়ের সমীকরণে তৃণমূল এই বিল পাস করানোর দাবি জানায়। কারণ কাজ শেষ হতে সময় লাগবে, তাই তারা এই অনাস্থা বিল আনে। শনিবার সপ্তদশ বিধানসভার শেষ দিনে পঞ্চায়েতের অনাস্থা সংক্রান্ত এই সংশোধনী বিলের প্রস্তাবটি আনা হয়।












