বাংলা হান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশের (India-Bangladesh) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিএনপি সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পর রহমানের উদ্দেশে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মোদি। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে সপরিবারে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, ইউনূস-পরবর্তী সময়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, সেই জল্পনার মধ্যেই এই বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ।
ভারত-বাংলাদেশ (India-Bangladesh) সম্পর্কের নতুন সমীকরণ
প্রধানমন্ত্রীর চিঠিতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মোদি লিখেছেন, “দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে, যা অভিন্ন ইতিহাস, সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং শান্তি ও সমৃদ্ধিতে আমাদের জনগণের আকাঙ্ক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত।” যোগাযোগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে তাঁর সরকার আগ্রহী বলেও জানিয়েছেন তিনি। জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করে ‘উষ্ণ স্বাগত অপেক্ষা করছে’ বার্তাও দিয়েছেন মোদি।
আরও পড়ুন:ভারত-ফ্রান্স দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে স্বাক্ষরিত হল ক’টি চুক্তি? কী কী বিষয়ে হল আলোচনা? মিলল আপডেট
প্রায় দেড় বছর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় আয়োজিত খোলা মঞ্চে শপথ নেন তারেক রহমান। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবউদ্দিন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব। ভারতের প্রতিনিধিদলে ছিলেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা এবং বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি, যা দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বকেই তুলে ধরে।
সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি-কে বড় জয়ে নেতৃত্ব দেন তারেক রহমান। দল আগেই ঘোষণা করেছিল যে তিনিই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। শপথ গ্রহণের পর তিনি বলেন, “আমি আইন অনুসারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্ব বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করব।” প্রথা ভেঙে বঙ্গভবনের পরিবর্তে সাউথ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠান হওয়াও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এদিন তাঁর সঙ্গে আরও ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন।

আরও পড়ুন: সমুদ্রে বাড়বে ভারতের শক্তি! ৯০,০০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পে মিলল সবুজ সংকেত
এতদিন অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন মহম্মদ ইউনূস। এবার পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদের সরকার পেল বাংলাদেশ। নতুন প্রশাসনের সামনে রয়েছে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার চ্যালেঞ্জ। এই প্রেক্ষাপটে মোদির অভিনন্দনবার্তা ও সফরের আমন্ত্রণকে নয়াদিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক উন্নয়নের ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কৌশলগত সমন্বয়ে দুই দেশের ভূমিকা কতটা গভীর হয়, সেদিকেই নজর কূটনৈতিক মহলের।












