বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, বছরের পর বছর ধরে পরিবেশগত বাধা-বিপত্তির পর অবশেষে গ্রেট নিকোবর মেগা ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (NGT) থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছে। ৯০,০০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ের এই প্রকল্পটি ভারতের (India) সামুদ্রিক ও কৌশলগত শক্তিকে নতুন করে উৎসাহিত করতে পারে। যেটি গ্রেট নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে বঙ্গোপসাগরের একটি প্রধান ট্রান্সশিপমেন্ট এবং লজিস্টিক হাবে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা করেছে। এই প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গ্যালাটিয়া উপসাগরে নির্মিত আন্তর্জাতিক কন্টেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট। যেটি কেবল একটি বন্দর নয়, বরং বিশ্ব বাণিজ্যে ভারতের ভূমিকা জোরদার করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সমুদ্রে বাড়বে ভারতের (India) শক্তি:
NGT-র সবুজ সংকেত: ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল ২০২২ সালে প্রদত্ত পরিবেশগত ছাড়পত্র বহাল রেখে এই মেগা প্রকল্পের পথ পরিষ্কার করেছে। প্রায় ১৬৬ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত, এই প্রকল্পটিতে ৩ টি প্রধান ক্ষেত্র রয়েছে। সেগুলি হল একটি কন্টেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট, একটি ডুয়েল-ইউজ সিভিল-মিলিট্রি এয়ারপোর্ট এবং একটি ইন্টিগ্রেটেড টাউনশিপ। শুধুমাত্র বন্দরের জন্য প্রায় ৪০,০৪০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এদিকে, প্রথম পর্যায়ের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮,০০০ কোটি টাকা। যা ২০২৮ সালের মধ্যে চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটির বার্ষিক ধারণক্ষমতা ৪০ লক্ষ TEU (Twenty-foot Equivalent Unit) -এরও বেশি। পূর্ণ ধারণক্ষমতায় এটি ১ কোটি ৬০ লক্ষ TEU-র বেশি কন্টেইনার পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।

মালাক্কা প্রণালীর কাছে কৌশলগত অবস্থান: জানিয়ে রাখি যে, গ্রেট নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় শক্তি হল এর অবস্থান। এই বন্দরটি মালাক্কা প্রণালী থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত হবে। এদিকে, মালাক্কা প্রণালী হল এমন একটি সমুদ্র পথ যার মধ্য দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের একটি বড় অংশ চলাচল করে এবং চিনের জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশও এই পথ দিয়ে আসে। এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের কাছে ভারতের উপস্থিতি আরও জোরদার করার এটি একটি সুযোগ। বর্তমানে, ভারতের ৭৫ শতাংশেরও বেশি ট্রান্সশিপমেন্ট কার্গো কলম্বো থেকে শুরু করে সিঙ্গাপুর এবং পোর্ট ক্লাং-এর মতো বিদেশি বন্দর দিয়ে যায়। নতুন বন্দরটি এই নির্ভরতা কমানোর দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে।
আরও পড়ুন: চিনের ডুবন্ত অর্থনীতির শেষ ভরসা ভারত! কেন দিল্লির দিকে ঝুঁকছে ড্রাগন?
অর্থনৈতিক যুক্তি এবং লজিস্টিক সুবিধা: উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালে ভারতের কন্টেইনার ট্র্যাফিক ছিল প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ TTU। যেখানে চিনের ট্র্যাফিক ছিল ২৪ কোটি ৫০ লক্ষ TTU। এই পার্থক্য ভারতের সামুদ্রিক পরিকাঠামো শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
আরও পড়ুন: AI-এর দুনিয়ায় ধামাকাদার ‘এন্ট্রি’ আদানির! করবেন ৯ লক্ষ কোটির বিনিয়োগ, সামনে এল মেগা প্ল্যান
ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ২০২২ সালের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, দুর্বল শিপিং সংযোগ বিশ্বব্যাপী ভ্যালু চেনে ভারতের অবদান হ্রাস করছে। যদি, বড় কন্টেইনার জাহাজগুলি সরাসরি গ্রেট নিকোবরে নোঙ্গর করে সেক্ষেত্রে ছোট ফিডার জাহাজগুলি ভারতের অন্যান্য বন্দরে পণ্য পরিবহণ করবে। এতে সময় এবং খরচ উভয়ই কমতে পারে। এদিকে, গ্যালাথিয়া উপসাগরের প্রাকৃতিক গভীরতা ২০ মিটারেরও বেশি। যার ফলে বড় জাহাজের জন্য কম ড্রেজিং প্রয়োজন হবে।












