বাংলাহান্ট ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সামিটে যোগ দিতে ভারতে (India-France) এলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মঙ্গলবার মুম্বইয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সফরের মূল আকর্ষণ ছিল ভারত-ফ্রান্স দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, যেখানে দুই দেশের কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। এআই সামিটকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যখন প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা তুঙ্গে, তখন এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।
ভারত-ফ্রান্স (India-France) দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে স্বাক্ষরিত হল ক’টি চুক্তি?
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে প্রায় ২০টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রতিরক্ষা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য এবং উদ্ভাবন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সমঝোতা স্মারকগুলি সই হয়েছে। দুই দেশ যৌথ গবেষণা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্পক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করবে বলেও ঘোষণা করা হয়। বিশেষ করে এআই, সাইবার সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:নতুন সরকারের সূচনা ঢাকায়! তারেকের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন ২ হিন্দুও
গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর দুই রাষ্ট্রনেতা যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আজ সারাবিশ্ব এক অনিশ্চয়তার সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও ফ্রান্স একসঙ্গে কাজ করে বিশ্বে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।” তাঁর কথায়, ফ্রান্স ভারতের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী এবং পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করেই দুই দেশের সম্পর্ক বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত হয়েছে।
মোদি আরও জানান, ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে ‘ইয়ার অফ ইনোভেশন’ বা উদ্ভাবনের বর্ষ শুরু হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গবেষণা, স্টার্টআপ সহযোগিতা এবং প্রযুক্তি বিনিময়ে নতুন দিগন্ত খুলবে। তিনি বলেন, “কোনও উদ্ভাবন বিচ্ছিন্নভাবে সম্ভব নয়। দুই দেশের মানুষ, গবেষক ও শিল্পমহলের সহযোগিতার মধ্য দিয়েই প্রকৃত অগ্রগতি ঘটে।” এই ঘোষণাকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি-নির্ভর অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে ব্যাখ্যা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন:সমুদ্রে বাড়বে ভারতের শক্তি! ৯০,০০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পে মিলল সবুজ সংকেত
বিশ্লেষকদের মতে, এআই সামিটের মঞ্চে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক কেবল প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বার্তাই দেয়নি, বরং ভূরাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারত-ফ্রান্স অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। প্রতিরক্ষা থেকে উদ্ভাবন—বহুমাত্রিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক যে আরও গভীর হচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠল মুম্বইয়ের এই বৈঠকে।












