শুধু হরমুজ নয়, এবার বন্ধ হবে এই প্রণালীও? হুঁশিয়ারি দিল হাউথিরা

Updated on:

Updated on:

New Warning from the Houthis Amidst the Iran War.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা! মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে ইরান (Iran War) হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে চরম জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ার পরও ফের একবার নতুন এক প্রণালী নিয়ে আশঙ্কা ঘনাচ্ছে। অভিযোগ, হরমুজ প্রণালীতে মিসাইল মোতায়েন করে রেখেছে ইরান, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাউথি মুভমেন্টের হুঁশিয়ারি। তাদের দাবি, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে যে কোনও সময় তারা সরাসরি সংঘাতে যোগ দিতে পারে।

ইরান যুদ্ধের (Iran War) মাঝে হাউথিদের নতুন হুঁশিয়ারি:

হাউথিদের এই ঘোষণার পর বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সংঘাত বাড়লে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেটি হল বব এল মান্ডেব। লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত এই প্রণালীটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই পথ দিয়েই লোহিত সাগর থেকে ভারত মহাসাগর হয়ে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহণ হয়। যদি এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়, তবে বিশ্ববাণিজ্যে তার মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

আরও পড়ুন: নির্বাচনী দায়িত্বে বড় বদল! ভোট ঘোষণার আগেই উত্তর কলকাতা নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল কমিশন

বাব এল-মান্ডেব শুধু সাধারণ বাণিজ্যের জন্য নয়, তেল পরিবহণের ক্ষেত্রেও একটি বড় করিডর। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় ৩০ শতাংশ এই পথ দিয়েই যাতায়াত করে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে  সৌদি আরব এই প্রণালীকে বিকল্প তেল সরবরাহের পথ হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। পাশাপাশি  সুয়েজ ক্যানালের মাধ্যমে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যে সামুদ্রিক বাণিজ্য সংযোগ তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত এই প্রণালী। ফলে বাব এল-মান্ডেব বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। লেবানন-অস্ট্রেলীয় এক পডকাস্ট হোস্ট সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, যদি হাউথিরা সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তবে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাঁর মতে, তখন শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব অর্থনীতিও বড় ধাক্কার মুখে পড়বে। কারণ তেল পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ দুইটি সমুদ্রপথ একসঙ্গে অচল হয়ে গেলে জ্বালানি সরবরাহে অভূতপূর্ব সংকট দেখা দিতে পারে।

New Warning from the Houthis Amidst the Iran War.

আরও পড়ুন: হুগলিতে পরিবহণে বড় সংযোজন! চালু হল নতুন বাস পরিষেবা, দেখে নিন সময়সূচি

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে এক ফোঁটা তেলও পশ্চিম এশিয়ার বাইরে যেতে দেওয়া হবে না বলে ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি জারি রেখেছে ইরান। এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে এবং চাপে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ একাধিক দেশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্প সাময়িকভাবে রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে খবর, যা নিয়েও নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে যদি হাউথিরাও সংঘাতে সরাসরি যোগ দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আরও জটিল ও বিস্তৃত হয়ে উঠতে পারে।