অ্যালোভেরা থেকে তৈরি ব্যাটারি! এই ২ ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার যা করলেন…পেলেন ৩.৫ কোটির ফান্ডিং

Published on:

Published on:

Nimisha and Naveen Suman's Success Story will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক অনন্য সাফল্য (Success Story) পেয়ে নজির গড়লেন দুই তরুণ ইঞ্জিনিয়ার। নিমিশা এবং নবীন সুমন নামে দুই কম্পিউটার বিজ্ঞানী অ্যালোভেরা থেকে তৈরি করেছেন এক অভিনব ব্যাটারি, যা সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং জৈবভাবে অবক্ষয়যোগ্য। পড়াশোনার সময়ই তাদের এই গবেষণার সূচনা হয়েছিল রাজস্থান টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে। সেই ছোট উদ্যোগই পরে রূপ নেয় একটি স্টার্টআপে, যার নাম অ্যালো ই-সেল প্রাইভেট লিমিটেড। তাঁদের মতে, এই প্রযুক্তি শুধু ই-বর্জ্য কমাতেই সাহায্য করে না, ব্যবহারের পর সেটি কৃষিক্ষেত্রে সার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

নিমিশা ও নবীন সুমনের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

গবেষণার সময় নিমিশা ও নবীন লক্ষ্য করেন, প্রচলিত ব্যাটারিতে সীসা ও পারদের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যা পরিবেশ দূষণ এবং ই-বর্জ্যের বড় উৎস। সেই সমস্যার সমাধান খুঁজতেই তাঁরা বিভিন্ন জৈব উপাদান নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেন। লেবু, আলু ও কলার মতো উপাদান দিয়ে পরীক্ষা শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত অ্যালোভেরা এবং কয়েক ধরনের প্রাকৃতিক ভেষজের সংমিশ্রণে এমন একটি ব্যাটারি তৈরি করতে সফল হন, যা সম্পূর্ণ জৈব উপাদানে তৈরি এবং উত্তপ্ত হলেও বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকে না।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের জেরে পড়েছিলেন আটকে! ইরান থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হল ভারতীয় পড়ুয়াদের

পড়াশোনার সময়ই প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই স্টার্টআপ দ্রুত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে শুরু করে। ২০১৯ সালে স্পেনের বার্সেলোনাতে আয়োজিত Schneider Electric Innovation Summit 2019-এ তাঁদের উদ্ভাবন বিশ্বের সেরা আটটি স্টার্টআপের মধ্যে জায়গা করে নেয়। পরবর্তীতে ভারত সরকারের তরফে প্রথম জাতীয় স্টার্টআপ পুরস্কারেও সম্মানিত হয় এই উদ্যোগ। সাধারণ মানুষের কথা ভেবে তাঁরা ব্যাটারির দাম মাত্র ৯ থেকে ১০ টাকার মধ্যে রাখার পরিকল্পনা করেন, যাতে প্রযুক্তিটি সহজে সবার নাগালে পৌঁছয়।

এই অ্যালোভেরা ব্যাটারি ঘড়ি, টিভি রিমোট কিংবা খেলনার মতো ছোট ইলেকট্রনিক যন্ত্রে ব্যবহার করা যায়। বহু বছর ধরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর প্রায় ১৫০০ জন ব্যবহারকারীর কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। এরপর ২০২৩ সালে পণ্যটি অনলাইনে বিক্রি শুরু হয় আমাজন এবং Government e-Marketplace (GeM) প্ল্যাটফর্মে। ধীরে ধীরে এই প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিচিতি পেতে শুরু করে।

Nimisha and Naveen Suman's Success Story will amaze you.

আরও পড়ুন: বাড়িতে রুই মাছ আছে? লঙ্কাপোড়া দিয়ে বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু এই রেসিপিটি, প্রণালী দেখে নিন

তবে সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে,  নিমিশা ও নবীন জনপ্রিয় ব্যবসায়িক রিয়েলিটি শো India’s Super Founders-এ অংশ নিয়েই। সেখানে তাদের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি দেখে মুগ্ধ হন বিচারকরা। শোয়ের মাধ্যমে স্টার্টআপটি প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা ফান্ড সংগ্রহ করে, যার মধ্যে ২.৫ কোটি ইকুইটি এবং ১ কোটি ঋণ। বর্তমানে এই স্টার্টআপের টার্ন ওভার দাঁড়ায় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। ভবিষ্যতে দ্রুত বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সারা দেশে এই পরিবেশবান্ধব ব্যাটারির ব্যবহার ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন দুই উদ্যোক্তা।