বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাজস্থানের যোধপুরের বাসিন্দা নির্মল চৌধুরীর জীবনে সাফল্যের গল্প (Success Story) গাথা আজ বহু তরুণের কাছে অনুপ্রেরণা। ৩ বছর ধরে UPSC পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে মেইনস পর্যন্ত পৌঁছলেও চূড়ান্ত সাফল্য পাননি তিনি। এই ব্যর্থতার পর বেঙ্গালুরুতে ৩৫ লক্ষ টাকার বার্ষিক প্যাকেজে একটি কর্পোরেট চাকরি শুরু করেন। কিন্তু নিজের শিকড়ের টানে তিনি আবার রাজস্থানে ফিরে আসেন এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন।
নির্মল চৌধুরীর অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
ফিরে এসে নির্মল শুরু করেন এক অভিনব উদ্যোগ, উটের দুধের ব্যবসা। ২০২১ সালে তিনি ‘মিল্ক স্টেশন’ নামে একটি ব্র্যান্ড গড়ে তোলেন। ব্যাঙ্ক ঋণের সাহায্যে পালি জেলায় একটি প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপন করেন তিনি। ইউপিএসসি প্রস্তুতির সময় অর্জিত গবেষণার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দুগ্ধ শিল্পের খুঁটিনাটি বোঝেন এবং ধীরে ধীরে নিজের ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যান। আজ তাঁর সংস্থার টার্নওভার প্রায় ৩৫ কোটি টাকা, যা তাঁর এই সাহসী সিদ্ধান্তের সার্থকতা প্রমাণ করে।
আরও পড়ুন: ঝাল, মশলা আর নরম মাংসের দারুণ মেলবন্ধন! সহজে তৈরি করুন স্পেশাল হায়দরাবাদি লাল মাস
তবে নির্মলের লক্ষ্য শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি সামাজিক উদ্যোগও। রাজস্থানের গর্ব উটের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি উপলব্ধি করে তিনি উট সংরক্ষণের দিকেও গুরুত্ব দেন। উটের দুধ দিয়ে তৈরি কুকিস বাজারে এনে তিনি একদিকে যেমন নতুন পণ্যের সংযোজন করেছেন, অন্যদিকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছেন। এর ফলে স্থানীয় উটপালকদের আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।
নির্মলের সাফল্যের অন্যতম কারণ তাঁর পণ্যের গুণমান ও বিশুদ্ধতা। তিনি গ্রাম, জেলা এবং কারখানা, এই তিন স্তরে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেছেন। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কাছ থেকে সংগৃহীত দুধ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত হয়। তাঁর পণ্যের মধ্যে ঘি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ‘মিল্ক স্টেশন’-এর পণ্য চারটি আউটলেট ছাড়াও বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সারা দেশে পৌঁছে যাচ্ছে।

শুরুর ছয় মাস ব্যবসা মাঝারি মানের হলেও দ্রুত উন্নতি করে এই সংস্থা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে যেখানে আয় ছিল ১১ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৩-২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ কোটিতে। ভবিষ্যতে আইসক্রিম তৈরির পরিকল্পনাও করছেন নির্মল। আগামী পাঁচ বছরে ১০০ কোটি টাকার ব্যবসা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন তিনি। ব্যর্থতা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে নতুন পথ তৈরির এই সাফল্যের গল্প (Success Story) আজ বহু তরুণকে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।












