বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি (Petrol- Diesel) ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয় তার প্রভাব ভারতেও কিছুটা পড়ে। তবে এই প্রথম থেকেই আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তা দেয় কেন্দ্র। এদিন আবারও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের পেট্রোল পাম্পগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, খালি বা অনুপযুক্ত পাত্রে পেট্রোল বা ডিজেলের মতো দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই তাড়াহুড়ো করে বোতল বা অন্য কোনও অনিরাপদ পাত্রে জ্বালানি জমা না রাখার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
পেট্রোল-ডিজেল (Petrol-Diesel) নিয়ে নেই চিন্তা, জানাল পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক:
পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন দেশে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল আংশিকভাবে ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, ইরান ওই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বহু পণ্যবাহী জাহাজের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যার ফলে কিছু ক্ষেত্রে জ্বালানির পরিবহণে বাধা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলিতেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের মাঝে একী কাণ্ড! এবার জাপান সাগরের দিকে মিসাইল ছুঁড়ল উত্তর কোরিয়া
এই পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেট্রোল পাম্পে গাড়ির লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। অনেকেই ভবিষ্যতের আশঙ্কায় বোতল বা অন্যান্য পাত্রে পেট্রল ও ডিজ়েল জমিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। সেই প্রবণতার কথা উল্লেখ করে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও পেট্রোল পাম্প থেকে অনুপযুক্ত পাত্রে জ্বালানি বিক্রি করা যাবে না। নিয়ম ভেঙে যদি কোনও ডিলার এমন কাজ করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সম্প্রতি তামিলনাড়ুর একটি পেট্রল পাম্পে অনুপযুক্ত পাত্রে পেট্রোল বিক্রির ঘটনা সামনে আসে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সংশ্লিষ্ট পাম্পের মালিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রক। কেন্দ্রের নির্দেশ, দেশের সব জ্বালানি ডিলারকে নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধি মেনে চলতেই হবে। কারণ ভুলভাবে পেট্রল বা ডিজ়েল সংরক্ষণ করলে তা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

আরও পড়ুন: রাত পোহালেই ‘হাওয়া বদল’, কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলার জন্য জারি হলুদ সতর্কতা
এদিকে পেট্রোল-ডিজ়েলের পাশাপাশি এলপিজি সিলিন্ডার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকের অভিযোগ, অনলাইনে বুকিং করতে সমস্যা হচ্ছে এবং বহু জায়গায় গ্যাসের দোকানের সামনে ভিড় দেখা যাচ্ছে। তবে কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশে জ্বালানির সামগ্রিক ঘাটতি নেই। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এলপিজি বুকিংয়ের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু কোথাও ঘাটতির খবর মেলেনি। সরকারের তরফে অনুরোধ করা হয়েছে, অযথা আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন হলেই জ্বালানি বা এলপিজি বুকিং করার জন্য।













