‘সুখসঙ্গী’ হলেও দুঃখের দিনে আসি! ভাঙছে দল, আরও কোণঠাসা মমতা

Published on:

Published on:

Once trusted are now leaving Mamata Banerjee's side as TMC Crisis continues
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ এখনও দুমাস হয়নি প্রকাশ্যে এসেছে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। বাংলায় প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই কার্যত অস্তিত্ব সংকটে তৃণমূল (TMC Crisis)। ‘আসল তৃণমূল’ গঠন করেছিলেন বিদ্রোহী ঋতব্রত। এমনকি যারা দীর্ঘদিনের সঙ্গী ছিলেন তাঁরাও একে একে ছেড়ে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)। এমনটাও যে হতে পারে ভেবেছিলেন কেউ! চলুন দেখে এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই দেড় মাসে কোন কোন পুরোনো সঙ্গীদের হারালেন মমতা!

দেড় মাসে মমতা বিরোধী যাঁরা!

অরূপ বিশ্বাস নামটা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া হোক বা খবরের হেডলাইন সর্বত্রই রয়েছে। তৃণমূল সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভায় জায়গা না পেলেও মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে দিদির প্রিয়দের মধ্যে একজন হয়ে উঠেছিলেন তিনি। শেষ ক্ষমতায় থাকাকালীন বিদ্যুৎ দফতরের দায়িত্ব ছিল তাঁরই কাঁধে। যদিও নয়া সরকার গঠনে ভুরি ভুরি বেনিয়মের অভিযোগ আসছে সেখান থেকেও। কিন্তু সম্প্রতি তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়ার দাবি স্পষ্ট করে দিল আর দিদির উপর ভরসা নেই অরূপের।

মমতার থেকে মুখ ফেরালেন ববি হাকিম-বালু-রবীন্দ্রনাথেরা?

তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকেই মমতার সাথে ফিরহাদ হাকিম। পুরভোটে টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ হলে, পরবর্তীতে কলকাতার মেয়র হন তিনি। এরপর বিরোধীদের আপত্তি থাকলেও পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর পেয়েছিলেন মেয়র হাকিম। কিন্তু এবার দেখা গেল দলের অভ্যন্তরে বিদ্রোহ শুরু হতে, বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী, তিনটি নতুন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল তৈরির নির্দেশ স্বাস্থ্য দফতরের

ওদিকে গাইঘাটার বালু মমতার সাথে ছিলেন যুব কংগ্রেসের সময় থেকেই। ‘দিদির দূত’ বলে তাকে চিনতেন সকলে। জেলে যাওয়া সত্বেও মমতার মন্ত্রিসভায় জ্বলজল করেছিল তাঁর নাম। যদিও সেটা পরবর্তীতে বাদ দেওয়া হয়। তিনিও মমতার সঙ্গ ছেড়েছেন গত শুক্রবার। এছাড়া খড়গপুরের প্রার্থী প্রদীপ সরকার, তিনিও এসপ্তাহের মঙ্গলবারই দল ছেড়েছেন!

সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় মমতা যখন ধর্ণায় বসেছেন তখন বর্ধমান থেকে লোক পাঠানোর দায়িত্বে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। একইসাথে পূর্ব বর্ধমানের আরেক নেতা স্বপ্ন দেবনাথ। দুজনেই প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মমতা ঘনিষ্ট ছিলেন। কিন্তু পালা বদলের পর পূর্ব বর্ধমান জেলার সভাপতিত্বের প্রস্তাব দিলে ফিরিয়ে দিলেন রবীন্দ্রনাথ। অর্থাৎ মমতার থেকে যে তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন সেটা স্পষ্ট।

আরও পড়ুনঃ যাত্রীদের জন্য সুখবর, চালু হচ্ছে আরও ৯ টি বন্দে ভারত স্লিপার! দেখুন বাংলায় কতগুলি

আরেকজন কাছের মানুষ ছিলেন মানস ভূঁইয়া। আব্দুল মান্নান না করা সত্ত্বেও পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছিলেন মমতার দৌলতে। এরপর ডাবল মার্ডারের মামলায় নাম আসে। তবু প্রথম রাজ্যসভায় পাঠানো হয় ও পরবর্তীতে মেলে মন্ত্রিত্বও। কিন্তু সরকারের পতন হতেই রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে মমতাকে ত্যাগ নিয়েছেন তিনি।

লিস্ট এখানেই শেষ নয়, বিদ্রোহী দলে নাম লেখাতে পারেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কাকলি ঘোষ দস্তিদার দল ছাড়লেন, ওদিকে মমতার দেওয়া বিয়ের উপহার ফেরত দিলেন কাকলির ছেলে। তাই আগামী দিনে কারা ঠেকবে শেষ পর্যন্ত সেটাই দেখার।