বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতের আপত্তি উপেক্ষা করেই ‘কাশ্মীর সংহতি দিবস’ পালন করল পাকিস্তান (Pakistan)। কিন্তু এই কর্মসূচি ঘিরেই আন্তর্জাতিক স্তরে অস্বস্তিতে পড়েছে শাহবাজ শরিফের সরকার। বিভিন্ন দেশে প্রবাসী কাশ্মীরি এবং পাকিস্তানি নাগরিকদের একাংশ এই দিনটিকে ব্যবহার করে চলা হিংসা, নিপীড়ন এবং ছায়াযুদ্ধের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, কাশ্মীর সংহতি দিবসের আড়ালে বছরের পর বছর ধরে সন্ত্রাসবাদ ও হানাহানিকে ঢাকার চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। সেই প্রতিবাদের ভাষা হিসেবেই একাধিক দেশে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা।
কাশ্মীরে সংহতি দিবস পালন করতে গিয়ে মুখ পুড়ল পাকিস্তানের (Pakistan):
ব্রিটেন, বেলজিয়াম-সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাকিস্তানের কনস্যুলেট এবং দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ দেখান প্রবাসী কাশ্মীরি ও পাক নাগরিকেরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কাশ্মীর ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করছে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী। ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করুন’ স্লোগান ওঠে বিক্ষোভস্থলে। তাঁদের দাবি, ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে উসকে দেওয়ার পাশাপাশি সীমান্তের এ পার-ও পার ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।
আরও পড়ুন: বিয়ের সম্পর্ক ভাঙলেই ধর্ষণ মামলা নয়! মিথ্যা অভিযোগে লাগাম টানল কড়া পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট
ব্র্যাডফোর্ডে পাকিস্তান কনস্যুলেটের সামনে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা জানান, পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাস ও হিংসার জেরে গত প্রায় আট দশকে কাশ্মীরে এক লক্ষেরও বেশি মানুষের প্রাণ গিয়েছে। শুধু ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর নয়, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। একই ছবি দেখা যায় লন্ডন ও ব্রাসেলসেও, যেখানে কনস্যুলেটের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন বহু মানুষ।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ‘কাশ্মীর সংহতি দিবস’-এর সূচনা করেছিলেন। প্রতি বছর ৫ ফেব্রুয়ারি এই দিনটি উপলক্ষে পাকিস্তানের সরকারি দপ্তরগুলিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই দিনটিকে ভারত-বিরোধী প্রচারের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে। এ বারও সরকারি বক্তব্য এবং কর্মসূচিতে সেই প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।

আরও পড়ুন: রেস্তোরাঁর স্বাদ এবার ঘরে! পরোটার সঙ্গে চিকেন চাপ বানান সহজ উপায়ে, রইল রেসিপি
এ দিন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি সরকারি বেতারে কাশ্মীরিদের ‘লড়াই’-এ সমর্থন জানান এবং আন্তর্জাতিক মহলকে ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান। অন্য দিকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রশ্নে পাকিস্তানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে নয়াদিল্লির উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন। তাঁর দাবি, দমন-পীড়নের মাধ্যমে উপত্যকায় স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। তবে একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পাকিস্তানের অবস্থানকেই আরও বিতর্কের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।












