“কলকাতা উড়িয়ে দেব” পহেলগাঁও ঘটনার বছর ঘোরার আগেই বিস্ফোরক হুমকি পাক মন্ত্রী খোয়াজা আসিফের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: গত বছর মে মাসে পহেলগাঁওতে ঘটে যাওয়া বর্বরোচিত পাক জঙ্গি হামলার ঘা এখনও দগদগে। এই ঘটনার বর্ষপূর্তি হওয়ার আগে পাকিস্তানের তরফ থেকে ফের হুমকি। এবার হুমকি  তিলোত্তমা কলকাতাকে (Kolkata) নিয়ে। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের আবহে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াল খোয়াজা আসিফের মন্তব্য। শনিবার সিয়ালকোটে সাংবাদিকদের সম্মুখীন হয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে কোনও সংঘাত হলে তা আর সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ভারতের অভ্যন্তরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি তিনি সরাসরি কলকাতার নাম উল্লেখ করে হুমকির সুরে মন্তব্য করেন, যা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

কলকাতায় (Kolkata) সন্ত্রাসবাদী হামলার হুমকি পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর

পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারত যদি কোনও ‘ অহেতুক মিথ্যা অজুহাতে’ সামরিক অভিযান চালানোর চেষ্টা করে, তবে তার পরিণতি ভালো হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এবার সংঘাত ২০০-২৫০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা ভারতের ভিতরে গিয়ে আঘাত হানবে। তিনি আরও দাবি করেন, ভারতে শীঘ্রই একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ হামলা ঘটতে পারে, যা নাকি নিজস্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটানো হবে। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরেননি।

আরও পড়ুন: বেঁচে থাকার জন্য পর্যাপ্ত খাবার পাওয়াও দুষ্কর হয়ে উঠবে ভারতে! প্রকাশ ভয়াবহ সমীক্ষা

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে আইএসআই নিজেই দেশের ভিতরে অশান্তি তৈরির পরিকল্পনা করতে পারে এবং তার দায় ভারতের উপর চাপাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, আন্তর্জাতিক মহলে সমর্থন আদায় এবং কূটনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য এই ধরনের ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ কৌশল ব্যবহার করা হতে পারে। ফলে গোটা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও এই উত্তেজনার পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক সমস্যায় জর্জরিত পাকিস্তান। এই অবস্থায় ‘বহিরাগত শত্রু’ তত্ত্ব তুলে ধরে জনগণকে একত্রিত করার কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Pakistani Defence Minister Threatens Terrorist Attack in Kolkata
পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ

আরও পড়ুন: CBSE দশমের রেজাল্ট সামনে! কবে বেরোবে ও কীভাবে চেক করবেন বিস্তারিত জানুন

এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কলকাতাকে (Kolkata) নিয়ে এ ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে, বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। আন্তর্জাতিক মহলও এই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে, কারণ দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার উপরও পড়তে পারে।