বাংলাহান্ট ডেস্ক : বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবী জুড়ে বেড়েই চলেছে গড় তাপমাত্রা। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তেও শুরু করে দিয়েছে। আর এবার এক ভয়াবহ সম্ভাবনার কথা জানাল গবেষকরা। বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে খাদ্য উৎপাদনে। যার জেরে ভবিষ্যতে উপযুক্ত পরিমাণে খাবার পাওয়ার সম্ভাবনাও কমছে ক্রমশ। আর এই সমস্ত দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ভারতও (India)।
ভারতে (India) খাদ্য সঙ্কটের সম্ভাবনা অদূর ভবিষ্যতে
মূলত কৃষিপ্রধান দেশ ভারত। এদিকে ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দুশ্চিন্তাও রয়েছে। এমতাবস্থায় ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের একটি নতুন সমীক্ষা আরও বাড়াচ্ছে চিন্তা। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তায় বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী গবেষকরা জানান, একটি নতুন খাদ্য নিরাপত্তা সূচক তৈরি করা হয়েছে। আর এই সূচক অনুযায়ী, ভারতের অবস্থান যথেষ্ট উদ্বেগজনক।

ভারতের বেসলাইন স্কোর কত: গবেষকরা জানাচ্ছেন, সূচক অনুযায়ী ভারতের (India) বেসলাইন স্কোর ৫.৩১ হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। কিন্তু এই স্কোর বিশ্বের গড় সূচকের (৬.৭৪) তুলনায় অনেকটাই কম। এর মধ্যে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির জেরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকরা। তাঁদের মতে, গড় তাপমাত্রা যদি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ে তবে দেশের বেসলাইন স্কোর নেমে ৪.৯৬ ও হয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন : রাহুলের মৃত্যুতে রিজেন্ট পার্কের পর তালসারি থানায় অভিযোগ দায়ের প্রিয়াঙ্কা সহ আর্টিস্ট ফোরামের
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রথম প্রভাবই পড়ে খাবারের উপরে। পরিস্থিতি কঠিন হয়ে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাবারও জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। গবেষকদের হিসেব অনুযায়ী, শিল্প বিপ্লবের আগে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা যা ছিল তার থেকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠবে খুব শীঘ্রই। এমনটা হলে নিম্ন আয়ের দেশগুলিতে খাবারের সমস্যা ক্রমেই বাড়বে।
আরও পড়ুন : মুখোশ খুলবে প্রযোজনা সংস্থার? রাহুলের মৃত্যুর এক সপ্তাহ পরে বিরাট আপডেট
হিসেব বলছে, বিশ্বের প্রায় ৪৫৬ কোটি মানুষ এমন সব দেশে বাস করেন যে সমস্ত দেশের বেসলাইন স্কোর ৬.৭৪ এর নীচে। এমতাবস্থায় বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি বাড়লে আরও আরও প্রায় ২৫০ কোটি মানুষ এই সীমার নীচে নেমে যাবেন। বেসলাইন স্কোরের তালিকায় সবথেকে উপরে রয়েছে আইসল্যান্ড আর সবথেকে নীচে সোমালিয়া।












