বাংলা হান্ট ডেস্ক: প্যান কার্ড (PAN Card) যে শুধুমাত্র কর জমা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয় এমনটা কিন্তু নয়। বরং, এটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য ডকুমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। আয়কর বিভাগের নিয়ম ১১৪B অনুসারে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কর ফাঁকি রোধ করতে বিভিন্ন বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে প্যান নম্বর প্রদান করা আইনত বাধ্যতামূলক। শুধু তাই নয়, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সম্পত্তি কেনা পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে এটি প্রয়োজন হয়। সম্প্রতি প্যান কার্ডের নিয়মকানুন ও আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। যা চলতি মাস অর্থাৎ এপ্রিল কার্যকর হয়েছে। বর্তমান প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের কাছে এমন ১৫ টি বিষয় উপস্থাপিত করব যেগুলির ক্ষেত্রে প্যান কার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ১৫ টি কাজে প্যান কার্ড (PAN Card) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
১. ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট: কোনও ব্যাঙ্ক বা সমবায় ব্যাঙ্কে নতুন অ্যাকাউন্ট (সেভিং বা কারেন্ট) খোলার জন্য প্যান কার্ডের প্রয়োজন হয়।
২. কার্ড ও ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট: ক্রেডিট কার্ড থেকে শুরু করে ডেবিট কার্ডের জন্য আবেদন করার সময় অথবা শেয়ার বাজারের জন্য ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট খোলার সময়েও প্যান কার্ড লাগে।
৩. যানবাহন ক্রয়-বিক্রয়: টু-হুইলার ব্যতীত অন্য যেকোনও যানবাহন ক্রয় বা বিক্রয়ের জন্যও প্যান কার্ডের প্রয়োজন হয়।
৪. মিউচুয়াল ফান্ড: এদিকে, মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট কেনার জন্য ৫০,০০০ টাকার বেশি বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে প্যান কার্ডের প্রয়োজন।
৫. হোটেল বিল: যেকোনও হোটেল বা রেস্তোরাঁয় একবারে ৫০,০০০ টাকার বেশি নগদ অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে প্যান কার্ড লাগে।

৬. বিদেশ ভ্রমণ: এছাড়াও, বিদেশ ভ্রমণের জন্য ৫০,০০০ টাকার বেশি নগদ অর্থ প্রদান করার ক্ষেত্রে অথবা বৈদেশিক মুদ্রা কেনার সময়ে প্যান কার্ড প্রয়োজন হয়।
৭. বিমা প্রিমিয়াম: এক বছরে ৫০,০০০ টাকার বেশি জীবন বিমা প্রিমিয়াম পরিশোধ করার ক্ষেত্রেও প্যান কার্ড প্রয়োজন।
৮. ডিবেঞ্চার এবং বন্ড: কোনও কোম্পানির বন্ড বা ডিবেঞ্চার কেনার জন্য ৫০,০০০ টাকার বেশি প্রদান করা হলে প্যান কার্ড প্রয়োজন
৯. RBI বন্ড: রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কর্তৃক ইস্যু করা বন্ড কেনার জন্য ৫০,০০০ টাকার বেশি প্রদান করা হলে প্যান কার্ড দরকার।
১০. নগদ জমা ও ব্যাঙ্ক ড্রাফট/পে অর্ডার: একদিনে কোনও ব্যাঙ্কে ৫০,০০০ টাকার বেশি নগদ জমা করা হলে বা কোনও ব্যাঙ্কে ৫০,০০০ টাকার বেশি নগদ জমা করে ড্রাফট বা পে অর্ডার করা হলেও প্যান কার্ড প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: টিম ইন্ডিয়ার চিফ সিলেক্টর হিসাবে মেয়াদ বৃদ্ধি হবে অজিত আগরকারের! কী পরিকল্পনা BCCI-র?
১১. ফিক্সড ডিপোজিট (FD): কোনও ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস বা NBFC-তে একবারে ৫০,০০০ টাকার বেশি অথবা বছরে ৫ লক্ষ টাকার বেশি FD করা হলে প্যান কার্ড প্রয়োজন।
১২. ডিজিটাল ওয়ালেট: প্রিপেইড পেমেন্ট ইন্সট্রুমেন্ট (যেমন ওয়ালেট)-এ এক বছরে ৫০,০০০ টাকার বেশি জমা করার ক্ষেত্রে প্যান কার্ড দরকার।
১৩. সম্পত্তি: ১০ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি (বাড়ি বা জমি) ক্রয় বা বিক্রয় করার ক্ষেত্রে প্যান কার্ড দরকার।
১৪. সিকিউরিটিজ: শেয়ার ব্যতীত ১ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের অন্যান্য সিকিউরিটিজ ক্রয় বা বিক্রয় করার ক্ষেত্রে প্যান কার্ড প্রয়োজন।
১৫. তালিকাভুক্ত নয় এমন শেয়ার লেনদেন: স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির ১ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের শেয়ার লেনদেন করার ক্ষেত্রে প্যান কার্ড প্রয়োজন। এছাড়াও, উপরিউক্ত পণ্য বা পরিষেবা ব্যতীত অন্য কোনও পণ্য বা পরিষেবার জন্য ২ লক্ষের বেশি মূল্যের লেনদেন করার ক্ষেত্রেও প্যান কার্ড প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ২০২৬-এর T20 বিশ্বকাপে ফিক্সিং? এই ম্যাচটিকে ঘিরে উঠছে প্রশ্ন, তদন্ত শুরু করল ICC
নিয়মের পরিবর্তন: জানিয়ে রাখি যে, ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে প্যান কার্ড পাওয়ার নিয়মে পরিবর্তন এসেছে। এখন থেকে শুধু আধার কার্ড ব্যবহার করে প্যানের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। বরং, জন্ম তারিখ সুনিশ্চিত করতে বার্থ সার্টিফিকেট, ভোটার আইডি, দশম শ্রেণির মার্কশিট, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হবে। এছাড়াও, পুরোনো ফর্ম ৪৯AA-এর পরিবর্তে এখন থেকে নতুন ফর্ম ৯৫ ও ৯৬ ব্যবহার করতে হবে।












