বাংলাহান্ট ডেস্ক: বলা হয়, এমনভাবে কাজ করো যাতে সেই কাজই একদিন তোমার পরিচয় হয়ে ওঠে। রাজস্থানের বারমের জেলার বাসিন্দা পবন কুমার প্রজাপত ঠিক সেই ভাবেই নিজেকে গড়ে তুলেছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে সাফল্যের (Success Story) চূঁড়ায় পৌঁছে তিনি আজ হাজারো তরুণের অনুপ্রেরণার নাম। ২০২১ সালে রাজস্থান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (RAS) পরীক্ষায় ১৭০তম স্থান অর্জন করে পবন প্রমাণ করেছেন, সীমাবদ্ধতা কখনও সাফল্যের অন্তরায় হতে পারে না। তাঁর জীবনের সংগ্রামের গল্প আজও মানুষকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে সাহস জোগায়।
পবন কুমারের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, পবনের শৈশব কেটেছে চরম অভাবের মধ্যে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত তিনি সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই দুর্বল ছিল যে ছোটবেলাতেই তাঁকে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি গ্রামে গ্রামে সবজি বিক্রি করে তিনি পরিবারের আয়ে সাহায্য করতেন। স্কুল ছুটির সময়ে যেটুকু কাজ পাওয়া যেত, সেটাই করতেন। পড়াশোনা আর জীবিকার এই দ্বন্দ্বই ছিল তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী।
আরও পড়ুন: ভোটমুখী রাজ্যে বিশেষ কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক, ট্রেনিং শুরু ১৪৪৪ আধিকারিকদের
দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় পবনের লড়াই আরও কঠিন হয়ে ওঠে। সংসার চালানোর চাপ, পড়াশোনার ক্রমবর্ধমান বোঝা এবং ইংরেজি বিষয়ের প্রতি ভয়—সব মিলিয়ে এক সময় তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। সেই সময়টা তাঁর জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায় বলে মনে করেন পবন নিজেই। তবে জীবন থেমে থাকেনি। সংসার চালাতে তাঁকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে, যা ভবিষ্যতে তাঁর মানসিক শক্তির ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
২০০৭-০৮ সালে পবন একটি কারখানায় কাজ শুরু করেন। সেখানে হাতে বালতি নিয়ে শ্রমিকদের খাবার পরিবেশন করতেন। সারাদিন খাটুনির পর দৈনিক মজুরি ছিল মাত্র ৫০ টাকা। পরে দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করে তিনি বিএ পড়ার প্রস্তুতি নেন। ২০১২ সালে সেনাবাহিনীতে পিয়নের চাকরি পেলেও তিনি তাতে যোগ দেননি। এরপর ২০১৩ সালে রেলওয়েতে গানম্যান এবং ২০১৪ সালে পাটোয়ারী পদে নির্বাচিত হন। ধীরে ধীরে সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতা তাঁর প্রশাসনিক স্বপ্নকে আরও দৃঢ় করে তোলে।

আরও পড়ুন: বাসন্তীতে ফের তৃণমূলের গোষ্ঠীযুদ্ধ! ইট-পাথরে রণক্ষেত্র ঢুড়ি বাজার, আহত ২০
২০১৬ সালে এলআরও পদে নির্বাচিত হলেও পবনের লক্ষ্য ছিল আরএএস হওয়া। ২০১৮ সালে প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। অবশেষে ২০২১ সালের পরীক্ষায় সাফল্য আসে। পবন কুমার প্রজাপত বলেন, তাঁর বাবা-মা কৃষক এবং নিরক্ষর হলেও তাঁরা কখনও মনোবল হারাতে দেননি। জীবনে পরিস্থিতি যাই আসুক না কেন, হতাশ না হয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়াই সাফল্যের চাবিকাঠি—এই বার্তাই তাঁর জীবন গল্প নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়।












