বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (Pakistan occupied Kashmir) পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত করের বোঝা, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি এবং প্রশাসনের দমন-পীড়নের অভিযোগ ঘিরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন বড় আকারের আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)। সংগঠনের দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমাতে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যেই অন্তত ৬০০ জন সমাজকর্মী ও আন্দোলনকারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক হয়েছেন সংগঠনের অন্যতম শীর্ষ নেতা সওকত নওয়াজ মীর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাক অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং আন্দোলনকারীরা পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ভারতের সাহায্য চেয়ে বিশেষ আর্জি PoK-বাসীর (Pakistan occupied Kashmir)
এরই মধ্যে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির শীর্ষ নেতা সর্দার আমান খানের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিশাল জনসমাবেশের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (Pakistan occupied Kashmir) বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরছেন। তাঁর দাবি, এলাকায় খাদ্য, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের মেন্ধার, পুঞ্চ, রাজৌরি ও ডোডা অঞ্চলের মানুষের উদ্দেশে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে বলেন, তাঁদের রেশন ও ওষুধের প্রয়োজন রয়েছে এবং মানবিক কারণে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি কাশ্মীর ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষের ঐক্যের বার্তা দিয়ে বলেন, বিভাজনের পরিবর্তে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। তাঁর বক্তব্যে পাকিস্তান সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনাও উঠে আসে।
বক্তৃতার এক পর্যায়ে সর্দার আমান খান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, আন্দোলনকারীরা কি এবার নিয়ন্ত্রণরেখার দিকে এগোতে প্রস্তুত? তাঁর এই প্রশ্নের জবাবে জনতার একাংশকে সমর্থনের স্লোগান দিতে শোনা যায়। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমাতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী বলপ্রয়োগ করছে এবং যদি এই দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকে, তাহলে আন্দোলনের পথ আরও কঠোর হতে পারে। যদিও আন্দোলনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষোভ আরও বাড়ছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, যদিও ভিডিওটির সমস্ত দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আন্দোলন দমাতে ব্যাপক পুলিশি অভিযান চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে পাকিস্তান প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি, কর বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবার সংকটের কারণেই মানুষের ক্ষোভ বিস্ফোরণের পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনের বিস্তার রুখতে প্রশাসনের কড়া অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পকে পরোয়া না করেই হরমুজে ‘টোল’-এর সিদ্ধান্ত ইরানের! ছাড় পাবে ভারত?
বর্তমান পরিস্থিতি শুধু পাক অধিকৃত কাশ্মীর (Pakistan occupied Kashmir) নয়, গোটা অঞ্চলের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্দোলনকারীদের একাংশ ভারতের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে, যা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন, খাদ্যসংকট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও সামনে এসেছে। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে স্পষ্ট, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অস্থিরতা এখনও কাটেনি এবং আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল ও দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।













