Instagram থেকে দ্রুত সরাতে হবে শিশুদের যৌন হেনস্থা সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন, Meta-কে ৭ দিনের আল্টিমেটাম সরকারের

Published on:

Published on:

Central govt orders quick removal of ads related to child sexual abuse from Instagram.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে এবার আরও কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্র সরকার। জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে (Instagram) শিশু যৌন শোষণ ও নির্যাতনমূলক সামগ্রী সম্পর্কিত অর্থপ্রদত্ত বিজ্ঞাপন দেখা যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই মেটাকে নোটিশ পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)। সরকারি সূত্রের দাবি, ইনস্টাগ্রামে এমন সমস্ত বিজ্ঞাপন এবং সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কীভাবে এই ধরনের বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ পেল এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে সংস্থা কী পদক্ষেপ নেবে, তারও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে কেন্দ্র। মেটা (Meta)-কে এই বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। শিশুদের সুরক্ষার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে সরকার।

Instagram থেকে দ্রুত শিশুদের যৌন হেনস্থা সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন সরানোর নির্দেশ কেন্দ্রের:

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নোটিশে মেটার কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে জানতে চাওয়া হয়েছে, ইনস্টাগ্রামের (Instagram) মতো বিশ্বের অন্যতম বড় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কীভাবে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক সামগ্রী প্রচারকারী বা তাতে প্রবেশাধিকার সহজতর করে এমন বিজ্ঞাপন অনুমোদন পেল। বিজ্ঞাপন যাচাই বা রিভিউ ব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি ছিল, তা নিয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই ধরনের বিজ্ঞাপন যাতে কোনওভাবেই প্রকাশ না পায়, তার জন্য কী ধরনের প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটিও জানাতে বলা হয়েছে। সরকারের নজর এখন মেটার উত্তরের দিকে। সংস্থাটি কীভাবে এই অভিযোগের জবাব দেয় এবং বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তনের আশ্বাস দেয়, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: নাতির শোকে মর্মান্তিক পরিণতি! কেতনের মৃত্যুর ১৬ দিন পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত ঠাকুরদা

ইনস্টাগ্রামে আপত্তিকর ও শিশুদের জন্য ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্বেগ নতুন নয়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশেই ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক মেটাকে তলবের প্রক্রিয়া শুরু করে। সরকারের মতে, শিশু যৌন শোষণ ও নির্যাতনমূলক সামগ্রী শুধু বেআইনি নয়, এটি শিশুদের নিরাপত্তা এবং অধিকারকে সরাসরি বিপন্ন করে। বিশেষ করে যখন অর্থের বিনিময়ে এই ধরনের বিজ্ঞাপন বহু মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, তখন বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। সেই কারণেই সরকার চাইছে, সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিলেই চলবে না, বরং আগে থেকেই কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

সরকারের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির দায়িত্ব রয়েছে ক্ষতিকর, বেআইনি এবং শিশুদের জন্য বিপজ্জনক কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত করে সরিয়ে ফেলার। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ফিল্টারিং ব্যবস্থা চালু করাও জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কনটেন্ট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, সন্দেহজনক বিজ্ঞাপনের মানবিক পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এই ধরনের অপরাধ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। কেন্দ্রও স্পষ্ট জানিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনওরকম অবহেলা বা দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

Central govt orders quick removal of ads related to child sexual abuse from Instagram.

আরও পড়ুন: ট্রাম্পকে পরোয়া না করেই হরমুজে ‘টোল’-এর সিদ্ধান্ত ইরানের! ছাড় পাবে ভারত?

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে কেন্দ্র সরকার। এর আগে আপত্তিকর ও অশ্লীল কনটেন্টের অভিযোগে একাধিক ওটিটি প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রিয় ডিজিটাল পরিষেবাগুলির বিভিন্ন নতুন ফিচার নিয়েও সরকারের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতাতেই এবার ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন শোষণ ও নির্যাতনমূলক সামগ্রী সম্পর্কিত বিজ্ঞাপনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মেটার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই আইন মেনে চলা এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনও সংস্থাকেই ছাড় দেওয়া হবে না (Instagram)।