বাংলাহান্ট ডেস্ক: জিএসটি ব্যবস্থায় (GST Reforms) বড়সড় সংস্কারের পথে কেন্দ্র (Central Government of India)। করদাতাদের উপর চাপ কমানো এবং ব্যবসার প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে জিএসটি কাউন্সিল (GST Council)। কর আধিকারিকদের গ্রেফতারির ক্ষমতা প্রত্যাহার, সাধারণ জরিমানার অঙ্ক কমানো এবং ফৌজদারি বিচারের আর্থিক সীমা বাড়ানোর মতো প্রস্তাব রয়েছে সেই তালিকায়। বৃহস্পতিবার কাউন্সিলের ৫৭তম বৈঠকের পর এই সুপারিশগুলিকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপে জিএসটি ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ হয়ে উঠবে।
জিএসটি সংশোধনে (GST Reforms) নয়া সুপারিশগুলিকে স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী মোদী:
কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী, জিএসটি (GST Reforms) আইনে ফৌজদারি বিচারের সীমা এক কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, কর সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে মামলা চালানোর আর্থিক সীমা আরও বাড়বে। পাশাপাশি, বর্তমানে যে সব ক্ষেত্রে সাধারণ জরিমানার অঙ্ক ২৫ হাজার টাকা, তা কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করার সুপারিশও করা হয়েছে। এই পরিবর্তন কার্যকর হলে ব্যবসায়ীদের উপর আর্থিক চাপ কিছুটা কমতে পারে।
আরও পড়ুন: রয়েছে হাউথি হামলার ঝুঁকি! সৌদিতে থাকা ভারতীয়দের সতর্ক করে কী জানাল দিল্লি?
জিএসটি সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার প্রক্রিয়াও আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট বা আইটিসি পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো, দ্রুত রিফান্ডের ব্যবস্থা এবং রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সরল করার উপর জোর দিয়েছে কাউন্সিল। বিশেষত ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে কর সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
এক্স হ্যান্ডেলে নিজের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, গ্রেফতারির বিধান প্রত্যাহার, ফৌজদারি শাস্তির পরিধি কমানো এবং কর সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করার সুপারিশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কর মেনে চলার খরচ কমানো, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে রিফান্ড এবং আস্থাভিত্তিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার উপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, করদাতাদের সুবিধা বাড়িয়ে জিএসটি ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব করে তোলার প্রচেষ্টারই অংশ এই সংস্কার।

আরও পড়ুন: ইলিশ নয়, বেগুন দিয়ে রাঁধুন পমফ্রেট, পুজোর জন্য থাকল ভিন্ন স্বাদের রেসিপি
তবে কাউন্সিলের সুপারিশ মানেই সব পরিবর্তন অবিলম্বে কার্যকর হয়ে যাওয়া নয়। সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই সেগুলি কার্যকর হবে। প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়িত হলে ব্যবসায়ীদের কর সংক্রান্ত জটিলতা কমতে পারে, রিফান্ড পেতে সুবিধা হতে পারে এবং ছোট সংস্থাগুলির দৈনন্দিন কাজের চাপও কমতে পারে। ফলে জিএসটি ব্যবস্থাকে (GST Reforms) আরও সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করে তোলার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।













