জাকার্তায় মোদীকে রাজকীয় অভ্যর্থনা! ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ সম্মানে সম্মানিত ভারতের প্রধানমন্ত্রী

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: তিন দেশের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফরের প্রথম পর্বে ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছে উষ্ণ সংবর্ধনা এবং সে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। জাকার্তায় তাঁর আগমনকে ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানান ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হয়, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীও এই সম্মানকে শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং ১৪০ কোটিরও বেশি ভারতীয়ের সম্মান বলে উল্লেখ করেছেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফর ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ সম্মানে সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)

ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেই নিজের সফরের একাধিক মুহূর্ত সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নেন নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তিনি জাভা দ্বীপের ঐতিহাসিক প্রাম্বানান মন্দিরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। পাশাপাশি জাকার্তায় তাঁকে দেওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনার ছবিও পোস্ট করেন। নিজের বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং সভ্যতার গভীর বন্ধনে আবদ্ধ। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরে দুই দেশের সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। তিনি আরও জানান, ইন্দোনেশিয়ার জনগণের ভালোবাসা ও সম্মান ভারতবাসীর প্রতিও সমানভাবে নিবেদিত, যা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন।

আরও পড়ুন:স্কুলে কম নম্বর, কলেজে ২৪টি ব্যাকলগ! হার না মেনে UPSC জয় করে তাক লাগালেন সমীর

ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ সম্মান গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ সকালে আমাকে ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। এই সম্মান আমার একার নয়, এটি কোটি কোটি ভারতীয়ের সম্মান। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্কের ইতিহাস বহু শতাব্দী পুরোনো। সেই ঐতিহাসিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করছি।” তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাই এই সফর শুধু সৌজন্য বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দিগন্তও খুলে দিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য একাধিক বড় চুক্তি। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের উন্নয়ন, বন্দর পরিকাঠামো, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার যৌথ ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ এবং সামুদ্রিক নজরদারির ক্ষেত্রেও দুই দেশ সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করছে বলে জানা গিয়েছে। এতে শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোও আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

PM Narendra Modi honoured with Indonesia's highest award.

আরও পড়ুন: সিন্ধু জলচুক্তি ঘিরে ফের ভারত-পাক উত্তেজনা! আসিম মুনিরের হুঁশিয়ারির যোগ্য জবাব দিল নয়াদিল্লি

ইন্দোনেশিয়া সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) তাঁর তিন দেশের সফরের পরবর্তী গন্তব্যে রওনা দেবেন। এই সফরের মাধ্যমে ভারত একদিকে যেমন কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে অর্থনীতি, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নতুন সহযোগিতার পথ খুলে দিতে চাইছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দুই গণতান্ত্রিক দেশের ঘনিষ্ঠতা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর কেবল কূটনৈতিক সৌজন্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কের ভিত্তি আরও মজবুত করার দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।