বাংলা হান্ট ডেস্ক: রাজ্যে ভোটের (West Bengal Election) ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অশান্তি মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। কিউআরটি (কুইক রেসপন্স টিম) ভ্যানে এবার থেকে থাকছে লাইভ ফিডের জন্য ক্যামেরা এবং জিপিএস ব্যবস্থার সংযোজন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার থেকে শুরু করে টানা পাঁচ দিন এই হাইটেক নজরদারি চালু থাকবে কলকাতা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে।
পশ্চিমবঙ্গে ভোট (West Bengal Election) পরবর্তী অশান্তি ঠেকাতে নয়া উদ্যোগ পুলিশের!
সোমবার ভোটের ফলাফল প্রকাশের দিন রাজনৈতিক দলগুলির ভাগ্য নির্ধারিত হলেও, তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগ রয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, ফল ঘোষণার পর শহর থেকে গ্রাম বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়েছে হিংসা, ভাঙচুর এবং সংঘর্ষের ঘটনা। সেই সব পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশকে একাধিকবার চাপে পড়তে হয়েছে, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি, পরবর্তী তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
আরও পড়ুন: রুদ্রনীল থেকে অগ্নিমিত্রা, সকাল থেকেই গেরুয়া ঝড়, এগোলেন কোন কোন বিজেপি প্রার্থী?
এই প্রেক্ষাপটেই কিউআরটি ভ্যানে লাইভ ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। কোনও এলাকায় উত্তেজনা বা হিংসার খবর পেলেই দ্রুত সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করা হবে এবং সেই ফুটেজ সরাসরি কন্ট্রোল রুমে পাঠানো হবে। এক শীর্ষ পুলিশকর্তার কথায়, এই লাইভ ফিড ভবিষ্যতে আদালতে গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য দলিল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে এবং ঘটনাস্থলের প্রকৃত চিত্র পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে সাহায্য করবে।
কিউআরটি ভ্যানে জিপিএস সংযুক্ত থাকায় প্রতিটি দলের অবস্থান ও গতিবিধিও নজরে রাখা সম্ভব হবে। পুলিশের দাবি, এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার ফলে নজরদারি আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে। কোনও রাজনৈতিক পক্ষই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলতে পারবে না, কারণ সমস্ত তথ্যই বাস্তবসম্মত ও তাৎক্ষণিকভাবে নথিবদ্ধ থাকবে।

আরও পড়ুন: ম্যাজিক ফিগার পার বিজেপির, কোণঠাসা তৃণমূল, পরিবর্তনের পক্ষে ভোট রাজ্যবাসীর?
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শহর ও শহরতলিতে মোতায়েন প্রতিটি কোম্পানির ন’টি সেকশনের মধ্যে ছ’টি সেকশন কিউআরটি হিসেবে ব্যবহার করা হবে। বাকি দু’টি সেকশন থাকবে স্থায়ী ডিউটিতে এবং একটি সেকশন কোম্পানি কম্যান্ডারের জন্য বরাদ্দ থাকবে। কিউআরটি পরিচালনার জন্য দু’টি মাঝারি এবং আটটি ছোট গাড়ি রাখা হচ্ছে। একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জেলাগুলিতেও কার্যকর করা হবে, যাতে ভোট-পরবর্তী (West Bengal Election) অশান্তি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।













