বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্য বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। মাদ্রাসা শিক্ষা (Madrasa Education) ও সংখ্যালঘু উন্নয়নের জন্য বাজেটে বরাদ্দ অর্থ নিয়ে বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। তাঁর বক্তব্যের পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা কড়া প্রতিবাদ জানান। এই নিয়ে শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা দেখা দেয়।
বাজেটে মাদ্রাসা শিক্ষা (Madrasa Education) ও সংখ্যালঘু উন্নয়ন খাতে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে
বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, এবারের বাজেটে মাদ্রাসা শিক্ষা (Madrasa Education) ও সংখ্যালঘু উন্নয়ন খাতে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু এই টাকা সত্যিই শিক্ষার উন্নয়নে খরচ হবে কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি আরও বলেন, এই অর্থের আড়ালে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এই মন্তব্যের পরেই বিধানসভায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়।
অগ্নিমিত্রার বক্তব্যের প্রতিবাদে সরব হন তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে অপরাধী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে। আবেগপ্রবণ কণ্ঠে ফিরহাদ বলেন, “সংখ্যালঘুরা কখনওই ক্রিমিনাল নয়।” স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলমানদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ করেন। বারবার তিনি বলেন, “আমরা ক্রিমিনাল নই।” এরপর বিজেপির পক্ষ থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অগ্নিমিত্রা পালের পাশে দাঁড়ান। তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষায় বিপুল অর্থ বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তোলা অন্যায় নয়।
শুভেন্দুর দাবি, এবারের বাজেটে মাদ্রাসা শিক্ষার (Madrasa Education) জন্য ৫,৭১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অথচ শিল্প খাতে বরাদ্দ মাত্র ১,৪০০ কোটি টাকা এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে মাত্র ২১৭ কোটি টাকা। এত টাকা খরচের পরেও মাদ্রাসা থেকে যথেষ্ট সংখ্যায় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা আইনজীবী তৈরি হচ্ছে না এই প্রশ্ন তোলাই স্বাভাবিক বলে তিনি মন্তব্য করেন। অসমের উদাহরণ দিয়ে শুভেন্দু বলেন, সেখানে সরকার মাদ্রাসা বন্ধ করে পড়ুয়াদের মূলধারার শিক্ষায় নিয়ে এসেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর।

আরও পড়ুনঃ সময়মতোই সব, কবে বেরোবে মাধ্যমিকের ফল? জানালেন দিলেন পর্ষদ সভাপতি
ফিরহাদ হাকিম পালটা জবাবে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, মুসলমানদের অপরাধী বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। “আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত,” বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি বলেন, ভারত সবার দেশ, কোনও একটি সম্প্রদায়ের নয়। সব মিলিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা (Madrasa Education) নিয়ে বাজেট বরাদ্দকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় বড় ধরনের রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়েছে। এই বিতর্ক আগামী দিনেও চলবে বলে মনে করা হচ্ছে।













