বিনিয়োগ করলেই সারা বছরের আয় নিশ্চিত! পোস্ট অফিসের এই বাম্পার স্কিমের হিসাব বুঝুন

Published on:

Published on:

Post Office SCSS scheme Senior Citizen Savings scheme calculation explained
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ প্রত্যেক মানুষ নিজের আয় থেকে নির্দিষ্ট কিছু টাকা সঞ্চয় করেন। অবসর পরবর্তী জীবনের কথা ভেবে অনেকেই সেই অর্থ নানা প্রকল্পে বিনিয়োগ করে থাকেন। আপনিও যদি এমন কোনও প্রকল্পের খোঁজে থাকেন, তাহলে একটি ভালো বিকল্প হতে পারে পোস্ট অফিসের এসসিএসএস স্কিম (Post Office SCSS Scheme) তথা সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম (Senior Citizen Savings Scheme)।

Post Office SCSS Scheme-এর হিসাব

প্রবীণ নাগরিকদের জন্য পোস্ট অফিসের একটি দারুণ প্রকল্প হল সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম। এতে বিনিয়োগ করলে অবসরের পর বিনিয়োগকারীর নিয়মিত নিশ্চিত আয় হয়। এমনকি সঠিক পরিকল্পনা করে বিনিয়োগ করলে বছরে ২.৪৬ লক্ষ টাকা অবধি হাতে আসতে পারে।

আরও পড়ুনঃ ভারতীয় পাসপোর্ট কি নাগরিকত্বের প্রমাণ? বিতর্কের মাঝেই বড় বার্তা কেন্দ্রের

বর্তমানে পোস্ট অফিস সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিমে ৮.২ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে। নিকটবর্তী যে কোনও পোস্ট অফিসে গিয়ে এসসিএসএস অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। সিঙ্গেল ও জয়েন্ট দুই ধরণের অ্যাকাউন্ট খোলার বিকল্প রয়েছে। সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে সর্বাধিক ১৫ লক্ষ টাকা ও জয়েন্ট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে সর্বাধিক ৩০ লক্ষ টাকা অবধি বিনিয়োগ করা যায়।

৬০ বছর অথবা তার বেশি বয়সী যে কোনও ব্যক্তি একা কিংবা স্বামী/স্ত্রীর সঙ্গে মিলে সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। মাত্র ১০০০ টাকা দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করা যায়। পাশাপাশি কিছু কিছু ক্ষেত্রে বয়সসীমায় শিথিলতা রয়েছে।

পোস্ট অফিস সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিমের মেয়াদ পাঁচ বছর। এই প্রকল্পের বেশ কিছু সুবিধাও রয়েছে। যেমন- এই স্কিমে বিনিয়োগকারীরা আয়কর আইনের ৮০সি ধারা অনুসারে বছরে ১.৫ লক্ষ টাকা অবধি কর ছাড় পান। পাশাপাশি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগে বিনিয়োগকারীর মৃত্যু হলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে বিনিয়োগের সম্পূর্ণ টাকা নমিনির হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে ম্যাচুরিটির আগে বিনিয়োগকারী নিজে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলে জরিমানা দিতে হয়।

পোস্ট অফিসের এই স্কিমে সঠিক পরিকল্পনা করে বিনিয়োগ করলে বছরে ২.৪৬ লক্ষ টাকা অবধি মিলতে পারে। ধরা যাক, কোনও বিনিয়োগকারী সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিমের জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ৮.২ শতাংশ সুদের হারের ভিত্তিতে শুধুমাত্র সুদ থেকেই বছরে ২ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা পাবেন তিনি। পাঁচ বছর (ম্যাচুরিটি অবধি) এই টাকা পাবেন তিনি। এরপর বিনিয়োগের সম্পূর্ণ টাকা তুলে নিতে পারবেন।

Post Office SCSS scheme

বিনিয়োগকারীরা যদি চান, আরও তিন বছরের জন্য বিনিয়োগের মেয়াদ বাড়াতে পারেন। পোস্ট অফিসের এই স্কিমে প্রত্যেক তিন মাস অন্তর সুদ দেওয়া হয়। সেই হিসাবে তিন মাসে সুদের পরিমাণ হবে ৬১ হাজার ৫০০ টাকা।

অবসরের পর নিশ্চিত আয় নিয়ে চিন্তায় পড়েন অনেকে। সেক্ষেত্রে একটি ভালো বিকল্প হতে পারে পোস্ট অফিস সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম। সঠিক পরিকল্পনা করে এখানে বিনিয়োগ করলে প্রবীণ নাগরিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।