বাংলাহান্ট ডেস্ক: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক নোটিস জমা দিল বিরোধী শিবির। দুপুরে লোকসভার সচিবালয়ে কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক কে সুরেশ এই নোটিস পেশ করেন। সূত্রের খবর, স্পিকার ইতিমধ্যেই নোটিসটি যাচাই করে দেখার জন্য লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল উৎপলকুমার সিংহকে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রস্তাবে বিরোধী শিবিরের প্রায় ১২০ জন সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে, যার মধ্যে কংগ্রেস, ডিএমকে ও সমাজবাদী পার্টির সাংসদেরা অন্তর্ভুক্ত।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের প্রস্তুতি
তবে এই নোটিসে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের স্বাক্ষর নেই বলেই জানা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই ইঙ্গিত মিলেছিল। মঙ্গলবার লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কংগ্রেসের উদ্যোগে আনা প্রস্তাবে নীতিগত আপত্তি নেই, কিন্তু বিজেপি-বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র অন্তর্ভুক্ত দলগুলির যৌথ বিবৃতি আগে প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন। সেই প্রক্রিয়া মানা হলে তবেই তৃণমূল সাংসদেরা নোটিসে সই করবেন বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
আরও পড়ুন: ক্রমাগত খুনের ঘটনায় উদ্বেগ, ভোটের ৩ দিন আগে ময়মনসিংহে প্রাণ গেল আরও এক ব্যবসায়ীর
বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, বাজেট অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদজ্ঞাপন পর্বে রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী সাংসদকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি আট জন সাংসদকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাগুলির প্রতিবাদ জানাতেই স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বিরোধী শিবিরের দাবি।
লোকসভার সচিবালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিয়ম মেনে নোটিসটি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। অতীতে স্পিকার অপসারণের জন্য অনাস্থা প্রস্তাব আনার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি বলেও জানা যায়। এ প্রসঙ্গে বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, সাংবিধানিক পদকে অপসারণের এই উদ্যোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দেশবাসীর এ বিষয়ে ভাবার সময় এসেছে।

আরও পড়ুন: ভোটের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় বাণিজ্যিক চুক্তি, বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক কমল
সংবিধানের ৯৪(সি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লোকসভার স্পিকারকে অপসারণ করতে হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রস্তাব পাশ হওয়া প্রয়োজন। সংসদীয় বিধি অনুসারে অন্তত ১৪ দিন আগে লিখিত নোটিস জমা দিতে হয় এবং নোটিসে কমপক্ষে দু’জন সাংসদের স্বাক্ষর আবশ্যিক, যদিও স্বাক্ষরের সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়। নোটিস গ্রহণ করা হলে নির্ধারিত দিনে এ নিয়ে আলোচনা ও ভোটাভুটি হয়। সেই সময় স্পিকার সাধারণত অধিবেশন পরিচালনা করেন না; ডেপুটি স্পিকার বা রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনও সাংসদ অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্ব নেন।












