বাংলা হান্ট ডেস্ক: ছয় রাজ্যে নতুন রাজ্যপাল নিয়োগ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Droupadi Murmu)। সোমবার রাতে রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর এই সংক্রান্ত (Governors) বিবৃতি জারি করা হয়েছে। তামিলনাড়ু, সিকিম, কেরল (Kerala), কর্নাটক, ওড়িশা এবং উত্তরাখণ্ডে নতুন রাজ্যপাল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নতুন দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনই প্রাক্তন সাংসদ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক বিজেপি নেতা এবং দীর্ঘদিন সংসদীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্ব। অন্যদিকে, রাজেন্দ্র আর্লেকর আগে বিহার ও হিমাচল প্রদেশের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। নতুন নিয়োগগুলি সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে দায়িত্বভার গ্রহণের দিন থেকে কার্যকর হবে বলে রাষ্ট্রপতির বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এই রদবদলের মধ্যে উত্তরাখণ্ডের মতো নির্বাচনের দিকে এগিয়ে চলা রাজ্যও রয়েছে, ফলে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দেশের ৬ টি রাজ্যে নতুন রাজ্যপাল নিয়োগ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Droupadi Murmu):
নতুন নিয়োগের তালিকায় সিকিমের রাজ্যপাল হচ্ছেন দুষ্যন্ত গৌতম। বিজেপির নতুন সভাপতি নীতিন নবীনের টিমে তাঁর জায়গা না হওয়ায়, তাঁকে অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সিকিমের রাজ্যপাল হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হল। এতদিন সিকিমের রাজ্যপালের দায়িত্বে থাকা ওমপ্রকাশ মাথুরকে পাঠানো হচ্ছে কেরলে। বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা মাথুর দীর্ঘদিন রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। এদিকে, কর্নাটকের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন বিজেপির সংসদীয় বোর্ডের সদস্য সুধা যাদব। তিনিও আগে সাংসদ হিসেবে কাজ করেছেন। অন্যদিকে, ওড়িশার রাজ্যপাল হচ্ছেন ব্রজমোহন রাম। পালামৌয়ের প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে পরিচিত ব্রজমোহনের এই নিয়োগও নতুন তালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে (President Droupadi Murmu)।
আরও পড়ুন: সৃজলাকে মনের কথা জানিয়েছিলেন দুর্নিবার! সোনামণির মন্তব্যে তোলপাড় বিগবসের ঘর
উত্তরাখণ্ডেও রাজ্যপাল পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী বছরের শুরুতেই ওই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন ধল সিং বিষেন। মধ্যপ্রদেশের বলাঘাট লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ফলে নতুন রাজ্যপালদের তালিকায় তাঁর নামও রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে। তামিলনাড়ুর ক্ষেত্রে রাজেন্দ্র আর্লেকরই রাজ্যপালের দায়িত্ব সামলাবেন। এতদিন তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয়কে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছিলেন। এবার সেই দায়িত্বে তাঁকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হল। সব মিলিয়ে ছয় রাজ্যের রাজভবনে এই রদবদলের ফলে প্রশাসনিক স্তরে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্যপাল নিয়োগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যপাল পদ ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ভোটের প্রায় দেড় মাস আগে আচমকাই পদত্যাগ করেন তৎকালীন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। এরপর বাংলার নতুন রাজ্যপাল হিসেবে আর এন রবির নাম ঘোষণা করা হয়। এর আগে তিনি তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল ছিলেন। সেখানে তাঁর ভূমিকা নিয়ে ডিএমকে-সহ বিরোধী শিবিরের একাংশের সঙ্গে রাজভবনের সংঘাত তৈরি হয়েছিল। ডিএমকের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, আর এন রবি যেখানেই দায়িত্ব পালন করেন, সেখানেই সংবিধান, গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও সেটি ছিল সংশ্লিষ্ট দলের রাজনৈতিক অবস্থান। বাংলায় তাঁর নিয়োগের পরেও তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ভূস্বর্গে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় মাইন বিস্ফোরণে খতম লস্করের শীর্ষ কম্যান্ডার-সহ ৪ জঙ্গি! বাড়ল নজরদারি
এবার ছয় রাজ্যে নতুন রাজ্যপাল নিয়োগের সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই সেই পুরনো বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রাজ্যপালরা সাংবিধানিক পদে থেকে রাজ্যের প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করেন। তাই তাঁদের নিয়োগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলের আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক। নতুন দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশেরই সংসদীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে তাঁদের নিয়োগের ফলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির প্রশাসনিক কার্যক্রমে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা নির্ভর করবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁদের ভূমিকার উপর। আপাতত রাষ্ট্রপতির ঘোষণায় ছয় রাজ্যে রাজ্যপাল পদে রদবদলই জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে (President Droupadi Murmu)।














