বাংলা হান্ট ডেস্কঃ উত্তরবঙ্গে রাষ্ট্রপতি (Droupadi Murmu) সফরকে ঘিরে শনিবার নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল। শিলিগুড়িতে এক আদিবাসী সম্মেলনে যোগ দিতে এসে অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন এবং দর্শকাসনে বহু ফাঁকা চেয়ার দেখে আক্ষেপ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন।
নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)
শনিবার শিলিগুড়ি মহকুমার গোঁসাইপুরে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)। মঞ্চে উঠে তিনি দেখেন, দর্শকাসনের অনেক চেয়ারই ফাঁকা পড়ে রয়েছে। এত কম মানুষ দেখে তিনি অবাক হয়ে বলেন, “এত চেয়ার ফাঁকা কেন? মনে হচ্ছে কাউকে হয়তো আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে।” জানা গেছে, প্রথমে এই সম্মেলনটি হওয়ার কথা ছিল শিলিগুড়ির বিধাননগরে। কিন্তু পরে একাধিকবার সভাস্থল বদলানো হয়। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছের গোঁসাইপুরে অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেয় প্রশাসন।
আয়োজকদের অভিযোগ, অনেক আমন্ত্রিত মানুষ নিরাপত্তা পাস না পাওয়ায় অনুষ্ঠানে ঢুকতে পারেননি। এমনকি তাঁদের অনেককে পুলিশ আটকে দেয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি (Droupadi Murmu) সরাসরি বিধাননগরে যান, যেখানে প্রথমে সভা হওয়ার কথা ছিল। সেখানে গিয়ে এলাকা ঘুরে দেখে তিনি বলেন, “আমি তো এখানেই সভা করতে চেয়েছিলাম। এখানে অনেক জায়গা আছে, অনেক মানুষ আসতে পারতেন। কিন্তু কেন এখানে অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেওয়া হল না, তা বুঝতে পারছি না।”
এই প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “তিনি আমার ছোট বোনের মতো। কিন্তু হয়তো কোনও কারণে তিনি আমার ওপর রাগ করেছেন। তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি, এমনকি কোনও মন্ত্রীও আসেননি।” রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, সাধারণত কোনও রাজ্যে রাষ্ট্রপতি গেলে মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার কেউ তাঁকে স্বাগত জানান, এটাই নিয়ম। তবে এদিন সেই প্রথা মানা হয়নি বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

আরও পড়ুনঃ ‘সব জানি, কিন্তু বলব না’, রাজ্যপাল বদলের কারণ নিয়ে ধরনা মঞ্চ থেকে বিস্ফোরক দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
বিধাননগরে একটি শালগাছ রোপণ করার পর রাষ্ট্রপতি (Droupadi Murmu) সেখান থেকে বাগডোগরা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন। যাওয়ার আগে তিনি বলেন, “আমি বাংলারই মেয়ে, বাংলার মানুষকে খুব ভালোবাসি। আপনারা সবাই ভালো থাকুন।”












