শুধু মহাকাশে পৌঁছনোই নয়! ভারত হয়ে উঠবে ‘গ্লোবাল স্পেস হাব’, কী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী?

Published on:

Published on:

Prime Minister Modi announces plans to make India a 'global space hub'.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: চন্দ্রযান-৩-এর সাফল্যের পর ভারতের (India) মহাকাশ কর্মসূচির লক্ষ্য যে আরও বড় হয়েছে, তা ফের স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। জাতীয় মহাকাশ দিবসকে (International Sports Day) সামনে রেখে দেশের ২০টি বেসরকারি মহাকাশ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেই আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসতেই সামনে এসেছে কেন্দ্রের পরবর্তী পরিকল্পনা। শুধু মহাকাশে রকেট বা উপগ্রহ পাঠানো নয়, ভারতকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে সরকার। মোদীর বার্তা, দেশের প্রতিভা এবং তুলনামূলক কম খরচে মহাকাশ প্রযুক্তি তৈরির ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবী মানুষ ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য ভারতকে বেছে নেবেন।

ভারতকে (India) ‘গ্লোবাল স্পেস হাব’ বানিয়ে তোলার কথা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী মোদির:

মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার প্রবেশের দরজা খুলে দেওয়ার পর গত কয়েক বছরে ছবিটা দ্রুত বদলেছে। ২০২০ সালে কেন্দ্র এই ক্ষেত্রটি বেসরকারি উদ্যোগের জন্য উন্মুক্ত করার পর উপগ্রহ তৈরি, রকেট নির্মাণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের মহাকাশ প্রযুক্তিতে নতুন সংস্থার অংশগ্রহণ বেড়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪ সালে দেশে বেসরকারি মহাকাশ স্টার্টআপের সংখ্যা ছিল মাত্র একটি। বর্তমানে সেই সংখ্যাই বেড়ে প্রায় ৪৪০ হয়েছে। ২০২৩ সালের ভারতীয় মহাকাশ নীতির ফলে এই সুযোগ আরও বিস্তৃত হয় এবং মহাকাশ শিল্পের একাধিক ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগের পথ সহজ হয়। মোদীর মতে, নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে উদ্যোক্তাদের নতুন প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক মডেলে বিনিয়োগের সাহস আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে ফের নিম্নচাপ! টানা ৩ দিনে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টি, আগাম আপডেট দেখে নিন

বৈঠকে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে বিশ্ব মহাকাশ শিল্পের বাজারের আকার প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার হলেও সেখানে ভারতের অংশীদারি আনুমানিক ৯ বিলিয়ন ডলার। আগামী দশকে এই অংশীদারি ৪০ থেকে ৪৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিনিয়োগও। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ সালে ভারতীয় মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল প্রায় ১০০.৫ মিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ নাগাদ তা বেড়ে ৬১৮.৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চলতি বছরেই প্রায় ১৮৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে বলে জানানো হয়েছে। ফলে মহাকাশ অর্থনীতিকে আগামী দিনে দেশের বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে কেন্দ্র।

২০টি সংস্থার প্রতিনিধিদের আলোচনায় ভবিষ্যতের বেশ কিছু উচ্চাভিলাষী প্রযুক্তির কথাও উঠে আসে। স্কাইরুট অ্যারোস্পেস, অগ্নিকুল কসমস, পিক্সেল, ধ্রুব স্পেস এবং গ্যালাক্সআই-এর মতো সংস্থাগুলি নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরে। শুধু নতুন রকেট বা স্যাটেলাইট তৈরিই নয়, মহাকাশে বিকল বা মৃত উপগ্রহ সরানোর রোবোটিক প্রযুক্তি, কক্ষপথে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা এবং মহাকাশে ওষুধ উৎপাদনের মতো নতুন ক্ষেত্র নিয়েও কাজ চলছে। কৃষি, উন্নত প্রপালশন ব্যবস্থা, গ্রাউন্ড স্টেশন নেটওয়ার্ক এবং উপগ্রহভিত্তিক পরিষেবাতেও বেসরকারি উদ্যোগের সম্ভাবনা দ্রুত বাড়ছে। ইতিমধ্যেই স্কাইরুটের মতো সংস্থা বেসরকারি রকেট উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে নজির তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতে উৎক্ষেপণের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

Prime Minister Modi announces plans to make India a 'global space hub'.

আরও পড়ুন: বদলে যাবে পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণ? ‘ইসলামিক ন্যাটো’-তে ইরানকে জানানো হল আমন্ত্রণ

সব মিলিয়ে জাতীয় মহাকাশ দিবসের আবহে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক থেকে যে বার্তা সামনে এসেছে, তা হল—ভারতের লক্ষ্য এখন শুধু মহাকাশ অভিযানে সাফল্য অর্জন নয়, বরং গোটা মহাকাশ অর্থনীতিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করা। মোদীর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে প্রতিভা, উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং বেসরকারি উদ্যোগের গুরুত্ব। তাঁর মতে, কোনও ভারতীয় স্পেস স্টার্টআপ বড় সাফল্য পেলে তার প্রভাব শুধু একটি সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের প্রতি আগ্রহও বাড়বে। সেই আগ্রহকে দীর্ঘস্থায়ী করে একটি শক্তিশালী শিল্প-পরিবেশ গড়ে তোলাই এখন মূল লক্ষ্য। সরকারি সহায়তা, বিদেশি বিনিয়োগ, রফতানির সম্ভাবনা এবং বেসরকারি সংস্থার প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে ভারত মহাকাশে নতুন অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে আসতে চাইছে (India)।