বাংলাহান্ট ডেস্ক: কয়েকদিন আগেই বিভৎস অগ্নিকাণ্ডে ঝলসে গিয়েছিল প্রায় পুরো শরীর। প্রাণে বাঁচাতে শুরু হয়েছিল কঠিন লড়াই। বিপুল অর্থ খরচ করে ভাড়া করা হয়েছিল এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স (Charter Plane Crashed)। আর প্রাণ বাঁচানোর উদ্দেশ্যে শুরু হওয়া ওই জরুরি সফরই প্রাণ কাড়ল রোগী সহ আরও ৭ জনের। সোমবার রাঁচি থেকে দিল্লিগামী একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স ভেঙে পড়ে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই দুর্ঘটনায় বিমানে উপস্থিত ৭ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাঁচি-দিল্লি চার্টার প্লেন (Charter Plane Crashed) ভেঙে পড়ে মৃত ৭
জানা গিয়েছে, সঞ্জয় কুমার নামে এক অগ্নিদগ্ধ ধাবা মালিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। দিন দশেক আগে তাঁর ধাবায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হন তিনি এবং শরীরের প্রায় ৬৫ শতাংশ পুড়ে যায়। এতদিন রাঁচির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন সঞ্জয়। চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে দিল্লিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সেই অনুযায়ী বিপুল টাকা খরচ করে সেই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ঘণ্ট নয়, বরং বানান স্টাফড বাঁধাকপি , এই একই সবজি কিন্তু একেবারে নতুন স্বাদে, প্রণালী রইল
চাতরার পুলিশ সুপার সুমিত আগরওয়াল জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যায় রাঁচি থেকে দিল্লির উদ্দেশে উড়ান শুরু করে ওই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি। বিচক্র্যাফট কিং এয়ার BE9L মডেলের সেই ছোট বিমানটি সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিট নাগাদ উড়ে যায় এবং রাত ১০টার মধ্যে দিল্লিতে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায় এবং বিমানটি মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সূত্রের খবর, উড়ানের কিছু সময় পর প্রায় সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিট নাগাদ কলকাতা এটিএসের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনার আগে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল এবং পাইলট ১৮ হাজার ফুটে ওঠার জন্য অনুমতি চেয়েছিলেন। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি রাডার থেকে রীতিমতো উধাও হয়ে যায়। পরে জানা যায়, ঝাড়খণ্ডের চাতরা জেলার সিমারিয়া জঙ্গলে ভেঙে পড়েছে বিমানটি।

আরও পড়ুন: শূন্যের চেয়েও কম নিট পিজির কাট অফ! বিরোধিতা চিকিৎসক মহলের, কী বলল সুপ্রিম কোর্ট
দুর্ঘটনার কারণ জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। বিমানে কোনওরকম যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না বা অন্য কোনও প্রযুক্তিগত বা আবহাওয়াজনিত সমস্যা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর তরফ থেকে একটি বিশেষ তদন্তকারী দলও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে পাশাপাশি পুলিশ, দমকল এবং ঝাড়খণ্ড প্রশাসনের স্থানীয় আধিকারিকরাও উদ্ধার ও তদন্ত কাজে যুক্ত রয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।












