বাংলা হান্ট ডেস্ক : বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় (Baruipur Incident) তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই তা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হচ্ছে। সোমবার প্রকাশ্যে এই ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ খুললেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath)। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবির পাশাপাশি এই ধরনের নৃশংস ঘটনার জন্য রাজ্যের অতীত প্রশাসনিক পরিস্থিতিকেই দায়ী করছে বিজেপি বিধায়ক।
বারুইপুর কান্ড নিয়ে অকপট রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath)
পানিহাটিতে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রত্না দেবনাথ বলেন, বারুইপুরের ঘটনা একটি সমাজের গভীর সংকটের প্রতিফলন। তাঁর অভিযোগ, প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক শৈথিল্যের কারণে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুরুত্ব কমেছে। তাঁর মতে, সেই পরিবেশই ভয়াবহ অপরাধের ক্ষেত্র তৈরি করেছে, যার নির্মম শিকার হয়েছে বারুইপুরের নাবালিকা।
বর্তমান সরকারকে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “বারুইপুরের ঘটনা বেদনাদায়ক। আমাদের সরকার মাত্র দু’মাস এসেছে। আমি বলব সরকারকে শক্ত হাতে এগুলোই দমন করতে হবে। এই ধরনের ঘটনা কেন হবে? আমি জানি ও বিচার পাবে। তবে এটাও ঠিক বাবা, মা তো আর সন্তানকে ফিরে পাবে না। বিচার আমিও অবশ্যই পাব। নতুন সরকার এসেছে। আমাদের সব তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হয়েছে, তাই বিচারের অগ্রগতিতে একটু সময় লাগছে। তবে তমন্নার মা এসে আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। সব অপরাধী ধরা পড়েছে। বারুইপুরের পরিবারও বিচার পাবে।”
বিধায়ক রত্না দেবনাথ জানান, নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। আগামী বিধানসভা অধিবেশনে নারী নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তোলার আশ্বাস দেন তিনি। এই ঘটনার প্রসঙ্গে নিজের সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রত্না দেবনাথ লেখেন, “বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন। নৃশংস ঘটনা। ৪ জন তুলে নিয়ে গিয়ে বাচ্চাটাকে অত্যাচার করে। তার মধ্যে এক অভিযুক্তর গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে। তবে, পুলিশ কয়েকঘণ্টার মধ্যেই বাকি ৩ জনকেই আটক করেছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নাবালিকার বাবাকে ফোন করে কথা বলেছেন। ভবানীভবনে মঙ্গলবার তাঁকে যেতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকার পাশে আছেন পরিবারের। মা-বাবার কোল যারা খালি করল তাদের কড়া শাস্তি হওয়া উচিত। নরপিশাচদের সঙ্গে আপসহীন বর্তমান রাজ্য সরকার।”
প্রসঙ্গত, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই, মূল অভিযুক্ত-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও তিনজনকে আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। যদিও ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতার হাতে ধরা পড়া এক অভিযুক্ত গণপিটুনির জেরে প্রাণ হারায়, যার পরিপ্রেক্ষিতে পৃথক তদন্তও শুরু হয়েছে। পুলিশের উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং গণপিটুনিতে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক মামলা রুজু হয়েছে।

আরও পড়ুন :স্টেশনে নোংরা দেখলেই এই নম্বরে হোয়্যাটসঅ্যাপ! মিলবে বিশেষ সার্টিফিকেট, বিরাট ঘোষণা পূর্ব রেলের
উল্লেখ্য, বারুইপুর কান্ডে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই নিহত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। বারুইপুরের এই ঘটনা রাজ্যে নারী নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং অপরাধ দমনের প্রশ্নকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে। তদন্ত শেষ করে দ্রুত চার্জশিট পেশ এবং আদালতের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি—এখন সেই দাবিতেই সরব পরিবার থেকে সাধারণ মানুষ, সকলেই।

















