‘মনে রেখো, নরেন্দ্র মোদী তোমাদের নেতা’, কাকে নিশানা করলেন কল্যাণ?

Published on:

Published on:

'Remember, Narendra Modi is your leader', who did Kalyan Bandopadhyay target?
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। দলের একাধিক সাংসদের NDA-র প্রতি আগ্রহের খবর সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এই আবহে দল ছাড়ার ইঙ্গিত দেওয়া সাংসদদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Bandopadhyay)। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কয়েকজন সাংসদের নাম উল্লেখ করে তিনি কড়া বার্তা দেন।

ক্ষোভ প্রকাশ কল্যাণের (Kalyan Bandopadhyay)

দলীয় সূত্রে দাবি, বেশ কয়েকজন সাংসদ তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ইউসুফ পাঠান, সাজদা আহমেদ, আবু তাহের এবং খলিলুর রহমানের নামও উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে আবু তাহের ও খলিলুর রহমানকে সরাসরি উদ্দেশ করে কল্যাণ বলেন, “আবু তাহের, খলিলুর রহমান, তোমার নেতা কিন্তু নরেন্দ্র মোদী। মনে রেখো।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু ভোট সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। সেই কারণে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিদের অবস্থান পরিবর্তনের জল্পনা স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘুদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া তৃণমূলের কয়েকজন সাংসদের NDA-র প্রতি ঝোঁককে হাতিয়ার করেই আক্রমণ শানান কল্যাণ।বলেন, “আমি ওঁদের প্রত্যেককে বলব বিধানসভা এলাকায় যান, যাঁদের ভোট নিয়ে এসেছিলেন, যে সব কর্মীরা লড়াই করেছিলেন আপনাদের জন্য, তাঁদের সঙ্গে মিটিং করুন। আবার গেরুয়া লোকদের নিয়ে মিটিং করবেন না।”

একইসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর দাবি, যারা আজ অভিযোগের কথা বলছেন, তাঁরা আগে কখনও সেই অভিযোগের কোনও লিখিত প্রমাণ দেননি। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “অভিযোগ কোথায় কাকে জানিয়েছিলেন? যদি অভিযোগ জানিয়ে থাকেন, তাহলে চিঠির কপি বা মেইল দেখান। আমরা তো অস্বীকার করছি, অভিযোগ জানিয়েছিলেন বলে, তাহলে প্রমাণ দেখান।” মহিলা সাংসদদের প্রসঙ্গ টেনেও কটাক্ষ করতে শোনা যায় তাঁকে। কল্যাণের বক্তব্য, “মহিলা এমপি-গুলোই বলেছে, দিদি কী সুন্দর তোমার শাড়ি। কী সুন্দর তোমার শাড়ির পাড়। কোনও অভিযোগ জানাইনি।”

দল থেকে দূরে সরে যাওয়া নেতাদের মনোভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আসলে ওঁরা সবাই ১৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকতে অভ্যস্থ হয়ে গিয়েছেন বলে আজও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই থাকতে চাইছেন।” তাঁর দাবি, “কে নারদায় ঘুষ খেয়েছে, কে সিন্ডিকেট করে ঘুষ খেয়েছে, কে সমুদ্রে গিয়ে কী করেছে, সব জানে। বিজেপি কলঙ্কিত লোকেদের নেবে না।”

'Remember, Narendra Modi is your leader', who did Kalyan Bandopadhyay target?

আরও পড়ুন : ছোটাছুটি, লাইনে দাঁড়ানোর দরকার নেই, ঘরে বসেই মোবাইল নম্বর বদলান প্যান কার্ডে

তারকা সাংসদদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বলেন, “ফিল্মস্টাররা ভিনদেশি তারা, ওদের ধারণা যেহেতু পাবলিক আমাদের দেখে দৌড়ে আসে, তাই পার্লামেন্টেও আমাদের দেখে সব দৌড়ে আসবে। কেষ্ট না থাকলে শতাব্দী রায় জিততে পারত না।”
তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ, সাংসদদের অবস্থান নিয়ে জল্পনা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। আগামী দিনে এই টানাপোড়েন কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।