বাংলাহান্ট ডেস্ক: আধাসামরিক বাহিনীতে কর্তব্যরত জওয়ানদের আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে উঠে এসেছে, গত কয়েক বছরের মধ্যে ২০২৫ সালেই সিআরপিএফে (CRPF Jawans) আত্মঘাতী জওয়ানের সংখ্যা সর্বোচ্চ ছিল। ওই বছরে মোট ৫৯ জন সিআরপিএফ জওয়ান আত্মহত্যা করেন। আরও উদ্বেগের বিষয়, আত্মঘাতী জওয়ানদের ৮০ শতাংশেরও বেশি ছিলেন কনস্টেবল পদমর্যাদার। প্রায় ৩.২৫ লক্ষ সদস্যের এই বাহিনী দেশের অন্যতম প্রধান অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী। ফলে বাহিনীর সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্যের এই পরিস্থিতি নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রশাসনের কাছেও বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৫-এ রেকর্ড ৫৯ CRPF জওয়ানের (CRPF Jawans) মৃত্যু, প্রকাশ্যে রিপোর্ট
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সিআরপিএফে (CRPF Jawans) মোট ২৬২ জন জওয়ান আত্মহত্যা করেছেন। তাঁদের মধ্যে ২০২ জন, অর্থাৎ ৭৭ শতাংশেরও বেশি, কর্তব্যরত অবস্থাতেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বাকিরা ছুটিতে থাকার সময় আত্মহত্যা করেন। বছরভিত্তিক হিসাবেও পরিস্থিতির ওঠানামা স্পষ্ট। ২০২১ সালে ৫৭ জন, ২০২২ সালে ৪৩ জন, ২০২৩ সালে ৫৭ জন এবং ২০২৪ সালে ৪৬ জন জওয়ান আত্মহত্যা করেন। এরপর ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৯-এ। অর্থাৎ পাঁচ বছরের হিসাবেই গত বছর আত্মহত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতের আকাশে ইতিহাস, প্রথম মহিলা ‘টপ গান’ ভাবনা কান্ত! যুদ্ধকৌশলে নতুন মাইলফলক বায়ুসেনার
রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এই সংখ্যা বেড়ে মোট ২৮১ হয়েছে। চলতি বছরে ওই সময়সীমার মধ্যে ১৯ জন জওয়ান আত্মহত্যা করেছেন। ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত আত্মহত্যা করা ২৮১ জনের মধ্যে ২৩৭ জনই নন-গেজেটেড পদমর্যাদার কর্মী। এই পরিসংখ্যান থেকে বাহিনীর নিচুতলার কর্মীদের উপর থাকা চাপের বিষয়টিও সামনে এসেছে। দায়িত্বের কঠোরতা, দীর্ঘ সময় বাড়ি থেকে দূরে থাকা, কর্মক্ষেত্রের চাপ এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যা মিলিয়ে অনেক জওয়ানকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আত্মহত্যার ঘটনাগুলির পেছনে পারিবারিক ও ঘরোয়া সমস্যাকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দায়িত্বের চাপ এবং বাহিনীর কঠোর নিয়মকানুন। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করতে গিয়ে জওয়ানদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর তার প্রভাব পড়ছে। রিপোর্টে আত্মহত্যার বিভিন্ন পদ্ধতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ২৮১টি ঘটনার মধ্যে ১২৮ জন গলায় দড়ি দিয়ে এবং ১১৮ জন আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আত্মহত্যা করেন। ১২টি ক্ষেত্রে বিষ খাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়াও ট্রেনে ঝাঁপ দেওয়া এবং হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: সাফল্যের পঞ্চমুকুট সানা ফায়াজের মাথায়! IFS সমাবর্তনে পাঁচ সম্মানে ভূষিত কাশ্মীরি কন্যা
সিআরপিএফের (CRPF Jawans) বিপুল সংখ্যক সদস্যকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি কার্যকলাপ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর কাজে মোতায়েন থাকতে হয়। আধিকারিকদের মতে, বাহিনীর প্রায় ৯৫ থেকে ৯৭ শতাংশ সদস্য কোনও না কোনও সময়ে এই ধরনের দায়িত্বে নিযুক্ত থাকেন। তাই আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধিকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। জওয়ানদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। ইতিমধ্যেই মানসিক স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক কল্যাণের উন্নতির লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এই পরিসংখ্যান দেখিয়ে দিচ্ছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কার্যকর ও ধারাবাহিক উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।













