সাফল্যের পঞ্চমুকুট সানা ফায়াজের মাথায়! IFS সমাবর্তনে পাঁচ সম্মানে ভূষিত কাশ্মীরি কন্যা

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: শ্রীনগরের পীরবাগের মেয়ে সানা ফায়াজের সাফল্যের গল্প (Success Story) এখন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে জম্মু ও কাশ্মীরের তরুণ প্রজন্মের কাছে। ২০২৪ ব্যাচের ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস (IFS) অফিসার সানা দেরাদুনের ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ফরেস্ট একাডেমির (IGNFA) সমাবর্তনে অসাধারণ কৃতিত্বের নজির গড়েছেন। কঠিন প্রশিক্ষণ পর্বে তাঁর পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে একসঙ্গে পাঁচটি পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে তাঁকে। শুধু তাই নয়, UPSC-এর মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া কাশ্মীর উপত্যকার প্রথম মহিলা IFS অফিসার হিসেবেও তাঁর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

সানা ফায়াজের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সানার দক্ষতার স্বীকৃতি মিলেছে একাধিক পুরস্কারে। শিক্ষাক্ষেত্রে অসাধারণ ফলাফলের জন্য তিনি পেয়েছেন ড. বি. এন. গাঙ্গুলী পুরস্কার। মাঠপর্যায়ে কাজের দক্ষতার জন্য মিলেছে সিনিয়র ফরেস্টার পুরস্কার। ভূমি ব্যবস্থাপনা ও মৃত্তিকা সংরক্ষণে কৃতিত্বের জন্য দেওয়া হয়েছে ডি. সি. আগরওয়াল পুরস্কার। প্রশিক্ষণ চলাকালীন সার্বিক পারফরম্যান্সের জন্য সুলোচনা নাইডু স্মৃতি পুরস্কার এবং বনবিদ্যা বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতার জন্য কে. পি. সাগরিয়া পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। ফলে তাঁর এই সাফল্য (Success Story) শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, একই সঙ্গে কঠোর প্রশিক্ষণ ও অধ্যবসায়েরও স্বীকৃতি বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: একবার বিনিয়োগ করলেই মাসে মাসে মিলবে ৬ হাজার! পোস্ট অফিসের এই বাম্পার স্কিমের হিসাব বুঝুন

তবে সানার এই জায়গায় পৌঁছনোর পথ মোটেই সহজ ছিল না। শ্রীনগরের প্রেজেন্টেশন কনভেন্ট হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে তিনি NIT শ্রীনগর থেকে বি.টেক করেন। পরিবেশের প্রতি আগ্রহ থেকেই পরে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেন। সিভিল সার্ভিসে প্রথম দিকে তাঁকে ব্যর্থতার মুখোমুখিও হতে হয়েছিল। কিন্তু সেই বাধা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ২০২১ সালে তিনি একই সঙ্গে JKAS এবং UPSC Civil Services পরীক্ষায় সাফল্য পান। JKAS পরীক্ষায় জম্মু ও কাশ্মীরে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন। UPSC Civil Services-এ সফল হয়ে তিনি Indian Trade Service-এ সহকারী মহাপরিচালকের দায়িত্বও নেন।

এর পরেও পরিবেশ ও বন সংরক্ষণের প্রতি তাঁর আগ্রহ কমেনি। নিজের লক্ষ্য পূরণে প্রস্তুতি চালিয়ে যান সানা। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালের UPSC Indian Forest Service পরীক্ষায় সারা দেশে দ্বাদশ স্থান অর্জন করে IFS-এ যোগ দেওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেন। পুরস্কার পাওয়ার পর সানা জানান, তাঁর এই যাত্রা জম্মু ও কাশ্মীরের আরও তরুণ-তরুণী, বিশেষ করে মেয়েদের IFS-কে পেশা হিসেবে বেছে নিতে উৎসাহ দেবে বলে তিনি আশা করেন। তাঁর মতে, IFS শুধুমাত্র সরকারি চাকরি নয়; বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরাসরি মাঠে কাজ করার সুযোগও দেয়।

Success Story of Sana Fayaj will Surprise you.

আরও পড়ুন:;AI-র অপব্যবহারে লাগাম! ডিপফেক মুছতে সোশ্যাল মিডিয়াকে ৩ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিল কেন্দ্র

প্রশিক্ষণ শেষ করে এজিএমইউটি ক্যাডারের এই তরুণ অফিসার এবার জম্মু ও কাশ্মীরেই দায়িত্ব পালন করবেন। জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং বন সংরক্ষণ যখন ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, তখন তাঁর দায়িত্বও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সমাবর্তনে নতুন IFS অফিসারদের অভিনন্দন জানিয়ে ভূপেন্দ্র যাদব তাঁদের দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের রক্ষক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পরিবেশ রক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করলে এই তরুণ অফিসাররা দেশের পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন। আর সানা ফায়াজের পাঁচটি পুরস্কার জয় সেই পথেই তাঁর উজ্জ্বল সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে (Success Story)।