ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে জালিয়াতি রুখতে কড়া পদক্ষেপ! নতুন সিস্টেম চালু করতে চলেছে RBI

Published on:

Published on:

Reserve Bank of India is taking major steps to prevent fraud.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমানে ডিজিটাল পেমেন্ট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। যেকোনও কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিল পরিশোধ করা অথবা কাউকে টাকা পাঠানোর বিষয়টি খুব সহজেই সম্পন্ন হয় ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে। তবে, ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল জালিয়াতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত হন সাধারণ মানুষ। এমনকি, আর্থিক দিক থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় তাঁদের। এমতাবস্থায়, একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, এবার ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তথা RBI (Reserve Bank of India) একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করছে।

RBI (Reserve Bank of India)-র নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা:

RBI-র মতে, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা সহজ ও দ্রুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারকদের জন্যও তা সহজ হয়ে গেছে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি সিস্টেমের কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং মানুষ নিজেরাই প্রতারিত হয়ে টাকা পাঠিয়ে দেন। যেটিকে অথরাইজড পেমেন্ট ফ্রড বলা হয়। যেখানে ব্যবহারকারী নিজেই লেনদেনটি অনুমোদন করেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি প্রতারণার শিকার হন। এই সমস্যাটি মাথায় রেখে, RBI বেশ কিছু নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থার পরামর্শ দিয়ে একটি আলোচনাপত্র প্রকাশ করেছে। এগুলির লক্ষ্য হল. মানুষকে আরও সুরক্ষিত করা এবং তাঁদের অর্থের ওপর আরও ভালো নিয়ন্ত্রণ দেওয়া। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি হল, অল্প পরিমাণ অর্থ ছাড়া বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে সামান্য বিলম্ব আরোপ করা হতে পারে। অর্থাৎ, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ১০,০০০ টাকার বেশি লেনদেনের জন্য প্রায় এক ঘণ্টার একটি কুলিং পিরিয়ডের পরামর্শ দিয়েছে। এই নিয়মটি UPI-র মতো দ্রুত পেমেন্ট সিস্টেমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। যা গ্রাহকদের প্রয়োজনে লেনদেন স্থগিত করার সময় দেবে। তবে, ব্যবসায়ীদের করা পেমেন্ট এই নিয়মের বাইরে থাকবে।

Reserve Bank of India is taking major steps to prevent fraud.

এই নিয়মের সুবিধা হল, যদি কেউ ভুলবশত বা চাপের মুখে টাকা পাঠান, তবে তাঁরা ভেবে দেখার এবং লেনদেনটি থামানোর জন্য সময় পাবেন। এই সামান্য বিরতি অনেক বড় ধরণের জালিয়াতি প্রতিরোধ করতে পারে। তাছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাই ব্যবস্থা প্রয়োগ করা যেতে পারে। এটি তাঁদেরকে বিশেষ সুরক্ষা দেবে, যাঁরা প্রায়শই প্রতারকদের সহজ শিকারে পরিণত হন।

আরও পড়ুন: বন্দে ভারতের থেকেও গতিশীল! ঘণ্টায় ২২০ কিমি বেগে ছুটবে রেলের নতুন এই ট্রেন

ডিজিটাল জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: উল্লেখ্য যে, ডিজিটাল জালিয়াতির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে এই ধরণের ঘটনা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতারিত হয়েছেন এবং হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রতারকরা এখন সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলতে ভুয়ো কল, ভুয়ো অ্যাপ, ডিপফেক ও ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে। এমতাবস্থায়, RBI জানিয়েছে যে, এই নতুন পদক্ষেপগুলি কেবল জালিয়াতিই কমাবে না, বরং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থাও বাড়াবে। এছাড়াও, কোনও লেনদেনে সময় লাগলে, অর্থ স্থানান্তর সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে অর্থ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়বে। RBI এই প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের কাছে পরামর্শও চেয়েছে। এর অর্থ হল, আগামী সময়ে ডিজিটাল পেমেন্ট আরও সুরক্ষিত, স্মার্ট ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হতেই স্বস্তিতে ভারতীয় কোম্পানিগুলি! লাফিয়ে বাড়ল রফতানি

ক্রমশ বাড়ছে সাইবার জালিয়াতি: জানিয়ে রাখি যে, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল জালিয়াতি ক্রমশ বাড়ছে। ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (NCRP)-র তথ্য থেকে জানা গিয়েছে যে, গত ৪ বছরে ডিজিটাল পেমেন্ট জালিয়াতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে প্রায় ২৮ লক্ষ মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল। যার মোট আর্থিক পরিমাণ ছিল ২২,৯৩১ কোটি টাকা। অন্যদিকে ২০২১ সালে ২ লক্ষ ৬০ হাজার মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল। যার মোট আর্থিক পরিমাণ ছিল ৫৫১ কোটি টাকা।