ভারতের অর্থনীতি পাবে বড় শক্তি! মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কটের আবহেই সরকারকে কয়েক লক্ষ কোটির উপহার RBI-র

Published on:

Published on:

Reserve Bank of India will give huge dividend to the government.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার আবহে বিশ্বব্যাপী একাধিক দেশের অর্থনীতি চাপের সম্মুখীন হয়েছে। যদিও, সেই আবহেই ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (Reserve Bank of India) তথা RBI এই বছর কেন্দ্রীয় সরকারকে তাদের সর্বকালের সর্ববৃহৎ লভ্যাংশ তথা ডিভিডেন্ড বিতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অর্থ সরকারি কোষাগারের জন্য একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করবে। জানিয়ে রাখি যে, বর্তমানে সুচিন্তিত সরকারি নীতি এবং বলিষ্ঠ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার কল্যাণে দেশের কোষাগার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায়, সরকারের কাছে পর্যাপ্ত সারপ্লাস ফান্ড থাকলে, অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়েই দেশে দ্রুত পরিকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। এই মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে RBI বোর্ড এই বিপুল ডিভিডেন্ডের পরিমাণ চূড়ান্ত করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

বিপুল ডিভিডেন্ড প্রদান করবে RBI (Reserve Bank of India):

পূর্বের সমস্ত রেকর্ড ভাঙতে চলেছে: জানিয়ে রাখি যে, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সারপ্লাস ফান্ড ইকোনমিক ক্যাপিটাল ফ্রেমওয়ার্ক (ECF) দ্বারা নির্ধারিত হয়। এই ফ্রেমওয়ার্কের নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ককে তার ব্যালেন্স শিটের ৪.৫০ থেকে ৭.৫০ শতাংশ ‘কন্টিনজেন্ট রিস্ক বাফার’ (CRB) হিসাবে সংরক্ষণ করতে হয়। অবশিষ্ট ফান্ড সরকারের কোষাগারে জমা হয়। এদিকে, গত অর্থবর্ষে (২০২৪-২৫), RBI সরকারকে ২.৬৯ লক্ষ কোটি টাকার উল্লেখযোগ্য ডিভিডেন্ড প্রদান করেছে। এই পরিমাণটি তার পূর্বের বছরে স্থানান্তরিত ২.১১ লক্ষ কোটি টাকার চেয়ে ২৭ শতাংশ বেশি ছিল। এবার এই পুরনো রেকর্ডটিও ছাড়িয়ে যাবে।

Reserve Bank of India will give huge dividend to the government.

সরকারি সেক্টরের ব্যাঙ্কগুলির শক্তিশালী মুনাফা এখন শক্তিতে পরিণত হয়েছে: উল্লেখ্য যে, সরকারের আর্থিক অবস্থা শুধু রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া দ্বারাই শক্তিশালী হয় না, বরং সরকারি সেক্টরের ব্যাঙ্কগুলির (PSB) চমৎকার কর্মক্ষমতার ফলেও শক্তিশালী হয়। সরকারের ব্যাঙ্কিং সংস্কারের প্রত্যক্ষ প্রভাব এখন দৃশ্যমান। মূলত, অ্যাসেট কোয়ালিটি উন্নত হওয়া এবং দ্রুত ঋণ বিতরণের ফলে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই ব্যাঙ্কগুলির সম্মিলিত নিট মুনাফা ১১.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১.৯৮ লক্ষ কোটি টাকার এক ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন: Jio-র IPO-র আগে বড় সিদ্ধান্ত! ইশা-অনন্তকে টেক্কা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেলেন আকাশ আম্বানি

এদিকে, অপারেটিং প্রফিটও ৩.২১ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই নিয়ে টানা চতুর্থ বছর সরকারি সেক্টরের ব্যাঙ্কগুলি মুনাফা অর্জন করেছে। বাজেট নথি অনুযায়ী, সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি থেকে ৩.১৬ লক্ষ কোটি টাকার ডিভিডেন্ড দেওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে, ব্যাঙ্কগুলির দুর্দান্ত আয়ের পরিপ্রেক্ষিতে, প্রকৃত পরিমাণ বাজেটের অনুমানের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: মাত্র ২৯ বছর বয়সেই ৬০০ কোটির মালিক! আচমকাই মৃত্যু এই বিখ্যাত বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের

অর্থনীতি নতুন গতি পাবে: জানিয়ে রাখি যে, RBI এবং ব্যাঙ্কগুলি থেকে প্রাপ্ত এই অর্থ নন- ট্যাক্স রেভিনিউর অংশ। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য, কেন্দ্রীয় সরকার নন-ট্যাক্স রেভিনিউ থেকে ৬.৬৬ লক্ষ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এছাড়াও, সরকারি সংস্থা (PSE) এবং অন্যান্য বিনিয়োগ থেকে ৭৫,০০০ কোটি টাকার লভ্যাংশ প্রত্যাশিত। যা গত বছরের ৭১,০০০ কোটি টাকা থেকে বেশি। এদিকে, ট্যাক্স থেকে প্রাপ্ত রেভিনিউতেও ব্যাপক বৃদ্ধি দেখা গেছে। এটি ২৬.৭৪ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২৮.৬৬ লক্ষ কোটি টাকা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই সম্পূর্ণ অর্থ দেশের অর্থনীতিকে বাহ্যিক ধাক্কা থেকে রক্ষা করবে। এছাড়াও, এই অর্থ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত থেকে উদ্ভূত যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে সম্পূর্ণ আর্থিক স্বাধীনতা দেবে। যা ভারতের উন্নয়নের সফরকে নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রাখতে নিশ্চিত করবে।