বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের মুখে বঙ্গ রাজনীতিতে প্রার্থী নিয়ে জোর জল্পনা। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে এবার নতুন প্রার্থীর নাম ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার (Rinku Majumdar) কি এবার নির্বাচনে লড়বেন? রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে।
কী বলছেন দিলীপ ঘোষ?
এই জল্পনা নিয়ে সরাসরি মুখ খুলেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, তাঁকে কোথায় টিকিট দেওয়া হবে, তা নিয়ে এখনও কোনও আলোচনা হয়নি। এমনকি রিঙ্কুর (Rinku Majumdar) সিভি নিয়েও দলের মধ্যে আলাদা করে কোনও আলোচনা হয়নি। দিলীপ জানান, প্রায় সাড়ে তিন হাজার নামের মধ্যে রিঙ্কুর নাম রয়েছে। তবে বিষয়টি এখনও প্রাথমিক স্তরেই আছে। তিনি বলেন, “আমি বলেছি, তোমার যদি রাজনীতি করতে ইচ্ছা হয়, করবে। আমাদের আবার আলাদা সংসার কী? বাড়িতে লোক আছে, মা আছেন। তাঁরা সংসার দেখবেন। আমাদের আলাদা সংসার ছিল, পরে এক হয়েছে। আবার আলাদা হয়ে লড়াই করব। পার্টির লোকজন জেতাবে।” দিলীপের এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাহলে কি সত্যিই রাজনৈতিক ময়দানে নামতে চলেছেন রিঙ্কু?
রিঙ্কু মজুমদার (Rinku Majumdar) কী বলছেন?
রিঙ্কুও (Rinku Majumdar) এই প্রসঙ্গে আশাবাদী। তিনি জানান, এই দলে কোনও কিছু আগে থেকে বলা যায় না। এটি একটি জাতীয় ও বিশ্ববিখ্যাত পার্টি। যতক্ষণ না নিজের নাম তালিকায় দেখছেন, ততক্ষণ কিছু নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তাঁর কথায়, “আশাবাদী তো অবশ্যই। কিন্তু নিজের নাম না দেখা পর্যন্ত কিছু বলব না।’
আলাদা লড়াইয়ের ইঙ্গিত?
দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে ‘আলাদা হয়ে লড়াই’ করার প্রসঙ্গ উঠতেই প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কি দু’জন আলাদা আসন থেকে লড়বেন? এই বিষয়ে রিঙ্কু (Rinku Majumdar) সাফ বলেন, “আমি আর দিলীপবাবু আলাদা কেন হব? আমরা একই ভাবধারার মানুষ। দু’জনেই রাজনীতির পথে চলছি। কিছু সময়ের জন্য হয়তো আলাদা হয়ে লড়াই করব, পরে আবার এক হয়ে যাব।” অর্থাৎ রাজনৈতিক লড়াই আলাদা হলেও ভাবধারায় কোনও বিভাজন নেই, এমনটাই বোঝাতে চেয়েছেন তিনি।
এখানেই শেষ নয়। রিঙ্কু মজুমদার আরও জানান, অনেকদিন ধরেই তাঁর ক্যাবিনেট মন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা আছে। বিষয়টি এতদিন প্রকাশ করেননি। শেষ মুহূর্তে দিলীপ ঘোষকে জানিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ক্যাবিনেট মন্ত্রী হতে চাই। অনেকেই পারেন, আমি কেন পারব না? অনেকে ভাবছেন, এই কারণে আমি দিলীপ ঘোষকে বিয়ে করেছি। সেটা ঠিক নয়। আমরা দু’জন সমমনোভাবাপন্ন বলেই বিয়ে করেছি। আমি মন্ত্রী না-ও হতে পারি। উনি হলেও আমি খুশি।”

আরও পড়ুনঃ কাজ করতে ইচ্ছে করছে না? অফিসে নিন ‘সফট ডে অফ’, কী এটা?
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের ভোটে রিঙ্কু মজুমদার (Rinku Majumdar) সত্যিই প্রার্থী হবেন কি না, তা এখনই পরিষ্কার নয়। তালিকায় নাম থাকলেও এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি। এখন সবার নজর দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।












