বাংলাহান্ট ডেস্ক: লাগাতার ব্যর্থতা পেরিয়ে অদম্য ইচ্ছাশক্তির সাহায্যে সফলতার (Success Story) শিখরে পৌঁছে এক অন্যরকম উদাহরণ তৈরি করেছেন ঋষু সোনি। ২০১৮ সালে উত্তরপ্রদেশের এক নামী কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি হাতে পাওয়ার পর মনে হয়েছিল জীবন যেন অনেকটাই গুছিয়ে গেছে। তাঁর সরকারি চাকরি হোক এটা তাঁর পাশাপশি তাঁর পরিবারেরও স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সামনে অপেক্ষা করছিল দীর্ঘ সংগ্রাম, যা তখনও কল্পনাতেও আসেনি ঋষু সোনির। পরবর্তী কয়েক বছরে একের পর এক ব্যর্থতা তাঁকে ঘিরে ধরলেও, তিনি থামেননি। বরং সেই ব্যর্থতাকেই শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে গিয়েছেন নিজের লক্ষ্যের দিকে।
ঋষু সোনির অনবদ্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিতে গিয়ে ঋষু ৫০টিরও বেশি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, ২৭টি মেইন পরীক্ষা এবং ৬টি ইন্টারভিউতে অংশ নেন। কিন্তু প্রতিবারই ফলাফল ছিল হতাশাজনক। ২০১৮ থেকে শুরু করে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা প্রায় সাড়ে ছয় বছর ধরে চলেছে এই ব্যর্থতার সিরিজ। কখনও প্রিলিমসেই আটকে গিয়েছেন, কখনও মেইনস তো আবার কখনও ইন্টারভিউয়ের শেষ ধাপেও ব্যর্থ হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই, আশপাশের মানুষ তাঁকে এই পথ ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিতে শুরু করেন।
আরও পড়ুন: একঘেয়ে বেগুন নয়!ধনেপাতার ফ্লেভারে বানান নতুন রেসিপি, ভাতের সঙ্গে জমবে দারুণ
উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলার এক সাধারণ পরিবারে বড় হয়ে ওঠা ঋষুর স্বপ্ন ছিল ছোট—একটি সরকারি চাকরি। স্কুলজীবন কেটেছে বান্দার সরস্বতী বিদ্যা মন্দিরে, এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি পাড়ি দেন এলাহাবাদে। ২০১৫ সালে এলাহাবাদ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে ২০১৮ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কলেজ শেষ করেই শুরু হয় তাঁর প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, যা ধীরে ধীরে পরিণত হয় এক দীর্ঘ মানসিক ও শারীরিক পরীক্ষায়।
তবে এই ব্যর্থতাতেই তাঁর কাহিনি শেষ নয়। ২০২৪ সাল ঋষুর জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই বছর তিনি একসঙ্গে ছয়টি সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় সফল হন—আরআরবি পিও, আরআরবি ক্লার্ক, আইবিপিএস ক্লার্ক, আইডিবিআই জেএএম, আইডিবিআই এক্সিকিউটিভ এবং এসবিআই ক্লার্ক। যদিও আইবিপিএস পিও ইন্টারভিউ ও এসবিআই পিও মেইনসে সাফল্য পাননি, তবুও তাঁর হাতে এসে যায় ছয়টি চাকরির অফার লেটার। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল মিলতে শুরু করে অবশেষে।

আরও পড়ুন: ভারতের ক্ষেত্রে নেই বাধা! আর কোন কোন দেশের জন্য খোলা রয়েছে হরমুজ? জানাল ইরান
ঋষুর কথায়, “ প্রতিবার রেজাল্টের দিন ভেঙে পড়েছি, কিন্তু পরের দিন আবার উঠে দাঁড়িয়েছি।” তাঁর এই অদম্য মনোভাবই তাঁকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়। বর্তমানে তিনি উত্তর প্রদেশ গ্রামীণ ব্যাঙ্কে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে কর্মরত, যেখানে তিনি ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ যোগ দেন। এর আগে IDBI ব্যাঙ্কে হেড ক্যাশিয়ার হিসেবেও কাজ করেছেন। ঋষুর এই যাত্রা প্রমাণ করে, সাফল্য (Success Story) একদিনে আসে না—কিন্তু ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং ‘হাল না ছাড়ার’ মানসিকতা থাকলে তা একদিন অবশ্যই আসে।












