বাংলাহান্ট ডেস্ক: কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং পারিবারিক বন্ধনের জোরে পুনের দুই ভাই রোহিত নন্দেশ্বর ও তাঁর দাদা এমন এক সাফল্যের গল্প (Success Story) লিখেছেন, যা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে। একসময় যাঁদের মাসিক আয় ছিল মাত্র ৪,৫০০ টাকা, সেই দুই ভাই আজ নিজেদের বাবা-মাকে উপহার দিয়েছেন একটি বিলাসবহুল অডি গাড়ি। এই ঘটনা শুধু আর্থিক সাফল্যের নয়, দারিদ্র্য পেরিয়ে স্বপ্নপূরণের এক দীর্ঘ লড়াইয়ের কাহিনি।
রোহিত নন্দেশ্বর ও তাঁর ভাইয়ের অনন্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
রোহিতদের শৈশব কেটেছে চরম অভাবের মধ্যে। ছোট ঘর, ভাঙা দেওয়াল, ছাদ থেকে জল পড়া—এই ছিল তাঁদের দৈনন্দিন বাস্তবতা। তবে অর্থের অভাব থাকলেও পরিবারে ভালোবাসা ও একে অপরের প্রতি ভরসার ঘাটতি ছিল না। রোহিত জানিয়েছেন, তাঁর বাবা প্রায় ৩৫ বছর ধরে অটোরিকশা চালিয়ে পরিবার চালিয়েছেন। মা সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি সামান্য সঞ্চয় করে বাবাকে নিজের রিকশা কেনার জন্য সাহায্য করেছিলেন। তবু স্কুলের ফি, বোনের বিয়ে এবং স্বাস্থ্যজনিত খরচ পরিবারকে প্রায়ই দুশ্চিন্তায় ফেলত।
আরও পড়ুন: রোজকার পাতে নতুন টুইস্ট—গরম ভাতের সঙ্গে পুর ভরা সিম ভাজা খেলেই মন ভরবে, রইল রেসিপি
পরিবারের চাপ সামলাতে ছোট বয়স থেকেই কাজ শুরু করেন দুই ভাই। রোহিত বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করেছেন—কখনও সিম কার্ড বিক্রি, কখনও সাইবার ক্যাফেতে কাজ, আবার রাতে লিফলেট বিলি। ২০১৫ সালে তিনি মাসে ৪,৫০০ টাকায় একজন এইচআর সহকারী হিসেবে কাজ পান। পাশাপাশি, দুই ভাই মিলে একটি ছোট ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসাও চালাতেন। এই সংগ্রামের দিনগুলিই তাঁদের দায়িত্ববোধ ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে।
২০১৮ সালে রোহিত শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ শেখা শুরু করেন। প্রথম দিকে কিছু সাফল্য এলেও কোভিড-১৯ মহামারির সময় বড় ধাক্কা খান। মাত্র এক মাসে প্রায় ২ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়, সঙ্গে ইএমআই ও ঋণের চাপ। সেই কঠিন সময়ে পরিবারই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। বাবার একটি কথাই তাঁকে বারবার ঘুরে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করে—“সৎভাবে কাজ করো, ফল পাবে।” হাল না ছেড়ে শেখা ও পরিশ্রম চালিয়ে যান রোহিত। কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি শুধু ক্ষতি পুষিয়ে নেননি, আর্থিকভাবে অনেক দূর এগিয়েও যান।

পরিস্থিতি বদলাতেই দুই ভাই সিদ্ধান্ত নেন, এবার বাবা-মায়ের জন্য কিছু বিশেষ করবেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাবাকে না জানিয়ে তাঁকে একটি শোরুমে নিয়ে যান তাঁরা। গাড়ির চাবি হাতে পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন বাবা-মা। রোহিতের কথায়, সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল জীবনের সব প্রাপ্তিই যেন সম্পূর্ণ। দারিদ্র্য থেকে সম্মানের এই যাত্রা প্রমাণ করে দেয়—পরিশ্রম, ধৈর্য আর পারিবারিক ভালোবাসা থাকলে অসম্ভব বলেই কিছু থাকে না।












