বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের জেরে চরম অস্থির পরিস্থিতির মাঝেই বড় পদক্ষেপ নিল রাশিয়া (Russia)। আগামী ১ এপ্রিল থেকে দেশটি সম্পূর্ণভাবে গ্যাসোলিন রপ্তানি নিষিদ্ধ করতে চলেছে। একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। শুক্রবার রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পেট্রোল রপ্তানি বন্ধের প্রস্তাব তৈরি করতে।
১ এপ্রিল থেকে কেন কোনও দেশে গ্যাসোলিন বিক্রি করবে না রাশিয়া (Russia)?
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, এই নিষেধাজ্ঞা স্বল্পমেয়াদি নয়, বরং প্রায় চার মাস অর্থাৎ ৩১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায়, এই সিদ্ধান্ত তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: বাড়িতে উপস্থিত পুলিশ! নেপালে পালাবদলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। উপ-প্রধানমন্ত্রী নোভাক জানান, এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই রাশিয়া নিজেদের অভ্যন্তরীণ বাজারকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে। যদিও বিদেশে রাশিয়ার জ্বালানি সম্পদের চাহিদা এখনও বেশি, তবুও দেশীয় সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
গত বছরের অভিজ্ঞতাও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সে সময় রাশিয়া ও তার নিয়ন্ত্রিত কিছু অঞ্চলে পেট্রোলের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। ইউক্রেনের হামলায় একাধিক তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ভবিষ্যতে কোনও ধরনের সংকট এড়াতে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন: তেড়েফুঁড়ে আসছে ঝড়-বৃষ্টি, দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় সতর্কতা জারি করল আবহাওয়া দপ্তর
উল্লেখ্য, এর আগেও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়া (Russia) পেট্রোল ও ডিজেল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। গত বছর দেশটি প্রায় ৫০ লক্ষ মেট্রিক টন পেট্রোল রপ্তানি করেছিল, যা দৈনিক প্রায় ১ লক্ষ ১৭ হাজার ব্যারেলের সমান। এবার সেই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আন্তর্জাতিক বাজারে না পাঠিয়ে দেশের ভেতরেই মজুত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে স্থানীয় বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখা যায় এবং সরবরাহে কোনও ঘাটতি না তৈরি হয়।












