কর্মই ধর্ম! ছেলে বিধায়ক হলেও বাবা চালান মুদি দোকান, ‘বদলের বাংলা’য় বেনজির ছবি

Published on:

Published on:

Sainthia MLA Krishna Kanta Saha father Ananda Mohan Saha still runs grocery shop
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কথায় আছে, ক্ষমতা মানুষকে বদলে দেয়। কিন্তু সেই কথা ভুল প্রমাণ করে চলেছেন সাঁইথিয়ার বিধায়ক (Sainthia MLA) কৃষ্ণকান্ত সাহা (Krishna Kanta Saha) ও তাঁর বাবা আনন্দমোহন সাহা। ছেলে বিধায়ক হয়ে যাওয়ার পরেও মুদি দোকান চালান আনন্দমোহনবাবু। তাঁর রোজকার জীবনে কোনও পরিবর্তন আসেনি। ‘বদলের বাংলা’য় এই বেনজির ছবি মুগ্ধ করেছে সকলকে।

বিধায়কও বাবার মতো মাটির মানুষ বলে দাবি স্থানীয়দের | (Krishna Kanta Saha)

ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে পালাবদলের সাক্ষী থেকেছে বাংলা। সাঁইথিয়া বিধানসভা কেন্দ্রেও এবার পদ্ম ফুটেছে। তৃণমূল প্রার্থীকে হারিয়ে বিধায়ক হয়েছেন বিজেপির কৃষ্ণকান্ত। তবে ছেলে এমএলএ হয়ে গেলেও বাবা আনন্দমোহনবাবুর জীবনে কিন্তু কোনও বদল আসেনি। এখনও চা, তেলেভাজা, মুদিখানার দোকান চালান তিনি।

আরও পড়ুনঃ দেখতে হুবহু এটিএম কার্ড! পিভিসি আধার কার্ড কীভাবে বানাতে হয়? জানুন পদ্ধতি

বীরভূমের ডেউচা বাসস্ট্যান্ডের ঠিক পাশেই আনন্দমোহনবাবুর বাড়ি। সেই বাড়ির নীচে তাঁর দোকান রয়েছে। বংশপরম্পরায় এই ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জন করে চলেছেন তাঁরা।

এই বিষয়ে একটি সংবাদমাধ্যমের কাছে সাঁইথিয়ার বিধায়কের বাবা বলেন, জনগণের কাজ করার জন্য, দেশের সেবা করার জন্য ছেলে বিধায়ক হয়েছে। ছেলে এখন আর তাঁর একার নয়, সে এখন পুরো সাঁইথিয়ার মানুষের। এই কারণে নিজের পুরনো পেশা ছেড়ে দেওয়ার কোনও ভাবনাই তাঁর মনে আসেনি।

Sainthia MLA Krishna Kanta Saha father Ananda Mohan Saha still runs grocery shop

আনন্দমোহনবাবুর কথায়, “ছেলে এখন আমার নয়, ছেলে জনগণের। ও যেন সকলের কাজে লাগে। আমার স্বপ্ন একটাই, ও যেন সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষের উপকারে লাগে।… ছেলে প্রায় ১২-১৪ বছর ধরে ঘর ছেড়ে দিনরাত পরিশ্রম করেছে। আজ সেটার ফল পাচ্ছে”।

ছেলে বিধায়ক। আনন্দমোহনবাবু চাইলে বাকি জীবন আরাম করে কাটাতেই পারতেন। তবে তিনি সেই পথে হাঁটেননি। তিনি বেছে নিয়েছেন পরিশ্রমের জীবন। এলাকাবাসীর কথায়, বিধায়ক কৃষ্ণকান্তও বাবার মতোই মাটির মানুষ। ক্ষমতার অহংকার তাঁকে স্পর্শ করেনি। সুখ হোক বা দুঃখ, সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়ান তিনি। বর্তমান সময়ে ক্ষমতা পেয়ে যখন অনেকেই বদলে যান, সেখানে অন্যরকম নজির স্থাপন করছেন এই পিতা-পুত্র জুটি।