বাংলা হান্ট ডেস্ক: চলছিল কলকাতা পুরসভার বাজেট অধিবেশন। বদলে গেল তা ফিরহাদ হাকিম এবং সজল ঘোষের বাক যুদ্ধে। এই দুই নেতার বাকবিতন্ডা ঘিরে সরগরম হয়ে উঠলো কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাজেট বক্তৃতা, আর ব্রাত্য থেকে গেল নাগরিক পরিষেবা। সজল ঘোষ (Sajal Ghosh) ও ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) বাক যুদ্ধে শুরু হলো নতুন করে রাজনৈতিক তরজা।
ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) সাথে সজল ঘোষের বাকযুদ্ধ
কলকাতা পুরসভায় পেশ হচ্ছিল বার্ষিক বাজেট। বক্তব্য রাখছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম আর এখানেই শুরু হয় দুই নেতার মধ্যে বাক-বিতণ্ডা। কে বেশি আদর্শহীন, কে পাল্টিবাজ এই নিয়েই চলল তরজা। কলকাতা পুরসভার বাজেটের শেষ দিনে নিজের জবাবি ভাষণ দিতে উঠেছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বক্তব্য রাখা কালীন তিনি বিরোধী বেঞ্চের দিকে দেখিয়ে বলেন যে, ‘তিনিও কোনও সময় ওই বেঞ্চে বসতেন। ফলত সমালোচনা বিরোধীরাই করবে। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় ভাবে সমালোচনা ওই বেঞ্চে বসে তিনি করতেন না।’
এই সময় বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমি তাহলে এখন এই বেঞ্চে, এরপর তাহলে মেয়রের চেয়ারের দিকে বসতে পারি?’ তখনই মেয়র সজল ঘোষ কে বলেন,’তুমি বা তোমারা এই চেয়ারে বসতে পারবে না। কারণ তুমি পাল্টিবাজ। নিজের আদর্শ বদলেছ। নিজের সংস্কৃতি বদলে দিয়েছ।’ এরপর সজল ঘোষ ও তার সঙ্গে আরও দুই বিজেপি কাউন্সিলর বিরোধী মঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়ান এবং প্রতিবাদ করেন ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্যের। পাল্টা হিসাবে শাসক দলের যে কাউন্সিলাররা ছিলেন, তারাও বেঞ্চ বাজিয়ে চিৎকার করতে থাকেন।
আরও পড়ুন:SIR-এর ফাইনাল লিস্টে নাম না থাকলে কী করবেন? কোথায় যাবেন? জানুন সবটা
ফিরহাদ হাকিম, সজল ঘোষ কে বলেন,’আপনি গডসেবাদ, মোদীবাদ নীতি নিয়েছেন। সুভাষবাদ-গান্ধীবাদ করুন। আদর্শ বদলে ফেলে, সংস্কৃতি বদলে কোনওদিন মেয়র হওয়া যায় না।’ পাল্টা বক্তব্য হিসেবে সজল ঘোষ বলেন, ‘আপনিও আদর্শ বদলেছেন। জোড়া পাতায় দাঁড়িয়েছেন, পরে তৃণমূল হয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির চালে ঢিল মেরেছেন। আপনি কোন নীতির কথা বলছেন।’
আরও পড়ুন:প্রতীক উরের পথে হেঁটে কি সিপিএম ছাড়ছেন সৃজনও? জল্পনার মাঝেই মুখ খুললেন বাম নেতা

এই দুই নেতার ঝামেলায় বাজেটের মূল বিষয় উপেক্ষিত থেকে যায়। সেখানে কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি, জঞ্জাল সাফাই কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো ইত্যাদি দাবি রয়েছে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে। সেগুলি নিয়ে মেয়রের বক্তৃতায় কোনও সদার্থক কথা শোনা যায়নি। ফলে নাগরিক পরিষেবার বিষয়টি ব্রাত্য থেকে গেল এই বাজেট অধিবেশনে মূলত এই দুই দলের নেতাদের তর্কাতর্কির জন্য।













