বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বেতন বৃদ্ধি (Salary Hike) সংক্রান্ত একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে রাজ্য সরকার। কয়েকদিন আগেই স্কুলের প্যারাটিচারদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। এবার রাজ্যের স্কুল ও কলেজগুলির অন্যান্য চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক (Contractual Teachers) ও শিক্ষাকর্মীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। এতে প্রায় ৫৫ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী উপকৃত হবেন বলে খবর।
চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বেতন বৃদ্ধি | (Salary Hike)
সোমবার রাজ্য বিধানসভায় শিক্ষা বাজেটের জবাবি ভাষণে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন এই আশ্বাস দিয়েছেন। এতে স্টেট এডেড কলেজ টিচার্স তথা স্যাক্ট ও সমগ্র শিক্ষা মিশনের অধীন স্কুলে নিযুক্ত চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বেতন বৃদ্ধি হবে।
আরও পড়ুনঃ অন্নপূর্ণা যোজনার তৃতীয় কিস্তি নিয়ে বড় আপডেট! কারা টাকা পাবেন জানুন
এই বিষয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেন, “স্যাক্টদের সাম্মানিক বৃদ্ধির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমায় এগিয়ে যেতে বলেছেন। তবে যাদের যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে, তাঁদেরই বেতন বাড়ানো হবে। যাদের নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে সেভাবে পদক্ষেপ নেবে সরকার। কারণ মাস্টার্স ডিগ্রিতে ৫৫ শতাংশের অনেক কম নম্বর পাওয়া অনেকেই আছেন।“
এদিকে জানা গিয়েছে, স্যাক্ট-১ ও স্যাক্ট-২ মিলিয়ে কলেজ শিক্ষকের সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৪৫০ জনের ৫৫ শতাংশের কম নম্বর রয়েছে। স্যাক্টের নেতা গোপাল ঘোষের দাবি, বেশিরভাগ স্যাক্ট শিক্ষকেরই ইউজিসি নির্ধারিত যোগ্যতা আছে।
গোপালের দাবি, বাংলার সব ‘এ’ বা তার থেকেও ভাল গ্রেড পাওয়া কলেজগুলি স্যাক্টদের নিয়েই চলছে। এই ধরণের স্বনামধন্য কলেজগুলিতে স্থায়ী শিক্ষকদের তুলনায় তাঁদের সংখ্যাই বেশি। ফলে মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিশেষ জায়গা নেই।
যদিও পরবর্তীতে রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জানান, যাদের যোগ্যতা নেই তাঁদের চিন্তা করার কোনও কারণ নেই। তাঁদের যোগ্যতা বৃদ্ধির সুযোগ প্রদান করা হবে।
অন্যদিকে স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী জানান, এসএসকে-র ৩০ হাজার ও মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের ৬২৯৩ জন শিক্ষাদানে নিযুক্ত ব্যক্তি, ৩২৮০ জন শিক্ষাবন্ধু সহ আরও বহু চুক্তিভিত্তিক কর্মীর বেতন বাড়ানোর ফাইল অর্থ দফতরে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রাথমিক সম্মতিও পাওয়া গিয়েছে।

একইসঙ্গে স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী দীপক জানান, স্কুল শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত নতুন নীতি আসছে। তিনি বলেন, অনুমোদিত পদের অন্তত ৭০% শিক্ষক যদি না থাকে, তাহলে সেই স্কুল থেকে কোনও শিক্ষকের বদলির আবেদন গ্রাহ্য করা হবে না।
পালাবদলের পর থেকে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে একাধিক উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্কুল ও কলেজের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বেতন বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের বদলি নিয়ে নয়া নীতি তারই প্রতিফলন।













