বাংলা হান্ট ডেস্ক : বারুইপুর খুন ধর্ষণ কান্ডে (Baruipur) ক্ষোভের আগুন এখনও প্রশমিত হয়নি। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে ভয়াবহ তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ, নাবালিকাকে অপহরণ করে গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত।
বারুইপুর ঘটনায় (Baruipur) বিক্ষোভের মুখে সায়নীরা
মঙ্গলবার সকাল থেকেই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে একের পর এক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা পৌঁছন। তবে তাঁদের অনেককেই স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র বিক্ষোভের মুখোমুখি হতে হয়।এদিন নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগেই সকালবেলা সেখানে পৌঁছে যান পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, লকেট চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিজেপি নেতা। অগ্নিমিত্রা জানান, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবেই সেখানে গিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বেলা বাড়তেই বারুইপুরে পৌঁছন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সদ্য শিবির বদল করা প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং কলকাতার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর শিউলি সাহা। পাশাপাশি আর একটি গাড়িতে ছিলেন দুই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও সায়নী ঘোষ। সোমবারই এই ঘটনায় ঋতব্রত শিবিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এই অ্যাকশন কিনা তা জানা যায়নি।
এদিন নির্যাতিতার বাড়িতে যাওয়ার সময় প্রথমেই বাধার মুখে পড়েন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। স্থানীয়দের একাংশ তাঁর পথ আটকে প্রশ্ন তোলেন, সংসদীয় এলাকার সাংসদ হয়েও কেন তিনি ঘটনার দুদিন পর সেখানে এলেন। এক ব্যক্তি সায়নীকে ঘিরে প্রশ্ন তুলে বলেন, “দু-দিন পর কি মুখ দেখতে এসেছেন? এতদিন কোথায় ছিলেন? প্রথমে এলেন না কেন?” বিক্ষুব্ধ জনতার ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও শুনতে হয় তাঁকে। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে সায়নী ঘোষ এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে এসে সায়নী ঘোষ জানান, “আমি কথা বলে যা বুঝলাম, এই ঘটনার পিছনে বৃহত্তর নেক্সাস আছে। মূল থেকে উৎখাত করতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। মুখ্যমন্ত্রী যথেষ্ট সেন্সিটিভ, তাঁর সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলব।” এরপরেও স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। কিছু সময় তাঁদেরও আটকে রাখা হয়। যদিও পরে তাঁদের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। এই ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “পরিবারের পাশে থাকার জন্য মুখ্যমন্ত্রী আমাদের পাঠিয়েছেন। এরকম ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য আমরা লড়াই করব।”

আরও পড়ুন : প্রসেনজিতের ঝুলিতে ‘শাহি উপহার’! বুম্বাদার হাতে বিশেষ গিফট তুলে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
একইসঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানান কাকলি। প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও একই সুরে দোষীদের ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের দাবি তোলেন। বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একদিকে তদন্ত দ্রুত এগোচ্ছে, অন্যদিকে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সোমবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। এখন নজর তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।













