বাংলা হান্ট ডেস্ক : বঙ্গে বিধানসভা ভোটের দামামা বেজে উঠেছে। রাজনৈতিক ময়দানে জোর কদমে চলছে প্রচার। শাসক থেকে বিরোধী, সকলে ব্যস্ত নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি এবার একের পর এক স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে বারবার দায়ী করা হচ্ছে দুর্বল পরিকাঠামো ও শিক্ষকদের অভাবকে।
রাজ্যে (West Bengal) শিক্ষকের অভাবে বন্ধ হচ্ছে স্কুল
কলকাতার বেশিরভাগ স্কুলে শিক্ষক থাকলেও জেলার চিত্র একেবারেই ভিন্ন। সরকার একাধিক প্রকল্প চালু করলেও জেলার স্কুলগুলির হাল ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। জানা গেছে, জেলার তুলনায় কলকাতায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি শিক্ষক রয়েছেন, অথচ ছাত্রসংখ্যা সেখানে অর্ধেকেরও কম। শিক্ষক বদলির সুযোগ তৈরি হওয়ায় বহু শিক্ষক জেলা ছেড়ে শহরমুখী হয়েছেন। ফলে গ্রামীণ স্কুলগুলোতে শিক্ষক সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। শিক্ষক না থাকায় ছাত্রসংখ্যা কমেছে, আর সেই ধাক্কা সামলাতে না পেরে একাধিক স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
শুধু তাই নয়, শিক্ষক সংখ্যার নিরিখেও পিছিয়ে রয়েছে বাংলা। পশ্চিমবঙ্গে মোট স্কুলের সংখ্যা ৯৩ হাজার ৭১৫, রাজস্থানে ১ লক্ষ ৬ হাজার ৩০২ এবং উত্তর প্রদেশে ২ লক্ষ ৬২ হাজার ৩৫৮। তবুও দেখা যাচ্ছে, রাজস্থানে প্রতি স্কুলে গড়ে ৬ জনের বেশি শিক্ষক থাকলেও বাংলায় সেই সংখ্যা ৫ জনেরও কম।
এই সংকটের বাস্তব ছবি স্পষ্ট হয় বিভিন্ন এলাকার স্কুলগুলিতে চোখ রাখলেই। দমদম বিধানসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত সূর্য সেন প্রাথমিক বিদ্যালয় পুরোপুরি বন্ধ। একই এলাকায় আরও কয়েকটি স্কুল শিক্ষকের অভাবে কার্যত অচল। এই প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক সংগঠনের নেতা চন্দন মাইতি বলছেন, “অবশ্যই ভোটাধিকার প্রয়োগের আগে স্কুলবাড়িগুলোর দিকে তাকানো উচিত। বাংলায় বিভিন্ন স্কুলে ১০০ জনকে পড়াচ্ছেন একজন শিক্ষক। এরকম চললে আর ছাত্র থাকবে না।”

আরও পড়ুন : ‘অতি স্পর্শকাতর’ বুথের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিল কমিশন
শিক্ষা ব্যবস্থা এখন বাংলার রাজনীতির এক বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। ভোটের ফলাফল যাই হোক, রাজ্যের স্কুলগুলির এই সংকট কাটাতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।

















