বাংলা হান্ট ডেস্ক : দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে কোনও আপস নয়। পশ্চিমবঙ্গে সংগঠনের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়েও কড়া নজরদারির বার্তা দিল বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। দলীয় ভাবমূর্তির পরিপন্থী কোনও কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
কী বলেছেন শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)?
বিজেপির এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, দলের নাম ব্যবহার করে কোথাও কোথাও দখলদারি, তোলাবাজি কিংবা জোর করে দলীয় রং করার মতো ঘটনা ঘটছে। তিনি স্পষ্ট জানান, এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত বা এইসব কর্মকাণ্ডে মদতদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই প্রসঙ্গে শমীক বলেন, “অনেকে আছেন যারা এইসব কাজে মদত দিচ্ছেন। বিধায়করাও যদি এই ধরনের কাজে যুক্ত থাকে তাহলে তাদের কেও রেওয়াত করা হবে না। ৫-৭ জন বিধায়ককে বের করে দিলেও দলের কোনও সমস্যা হবে না। পার্টিতে যা ইচ্ছা করা যাবে না, তৃণমূলী সংস্কৃতি চলবে না।” এর পাশাপাশি জমি বা বাড়ি দখলের অভিযোগ, শিল্পপতিদের অযথা হেনস্থা করা কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর মতো বিষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
রাজ্য সভাপতির বক্তব্যের পর দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশলও নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, “এগুলো কেন বারবার রাজ্য সভাপতি কে আপনাদের বলতে হচ্ছে? আপনারা উপলব্ধি করুন।” বৈঠকের পরেই ভোট-পরবর্তী সময়ে ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া, দলীয় কর্মীদের উপর হামলা চালানো-সহ একাধিক সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তিন বিজেপি নেতাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। সাসপেন্ড হওয়া নেতারা হলেন নিউ বারাকপুর ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি তিতু সরকার, সহ-সভাপতি তীর্থ মিত্র এবং উত্তর শহরতলি সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক নিত্য মিত্র।

আরও পড়ুন : গ্যাস গ্রাহকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ, ভর্তুকির সিলিন্ডার সংখ্যা কমল উল্লেখযোগ্যভাবে
উল্লেখ্য, স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় সংগঠনের ভিতরে নেতৃত্ব ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সম্প্রতি কর্মীদের একাংশের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারধরের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বের নজরে আসে। রাজ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও তীব্র হওয়ার আগে সংগঠনের ভিতরে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই বিজেপি যে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, সাম্প্রতিক এই সাসপেনশনের ঘটনায় সেই বার্তাই স্পষ্টভাবে সামনে এল।













