দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা, নেই কোনও ডিগ্রি! ২ কোটির ব্যবসা গড়ে তাক লাগালেন শরৎ

Published on:

Published on:

Sharat Arav's Success Story will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: প্রতিভা থাকলে জীবনে সাফল্য (Success Story) পেতে গেলে যে ডিগ্রির খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না তা আরও একবার প্রমাণ করে দিয়েছেন, কর্ণাটকের নানজানগুডের বাসিন্দা শরৎ আরব।  আজ নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও দক্ষতার জোরেই তিনি এক অনন্য সাফল্যের গল্প তৈরি করেছেন। কোনও উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি ছাড়াই তিনি গড়ে তুলেছেন ‘ওডেয়ার আর্ট’ নামের একটি সফল স্টার্টআপ, যা বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থার জন্য আধুনিক কাঠের পণ্য তৈরি করে। মাত্র ২০ হাজার টাকা পুঁজি দিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ অল্প সময়ের মধ্যেই বছরে প্রায় ২ কোটি টাকার ব্যবসায় পৌঁছে গেছে।

শরৎ আরবের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

শরৎ এক অত্যন্ত সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা ছেলে। পড়াশোনায় আগ্রহ না থাকায় দশম শ্রেণির পরই স্কুল ছেড়ে দেন তিনি। তবে সেখানে থেমে না থেকে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মন দেন। প্রথমে ডিজাইন ও এডিটিংয়ের কাজ করতেন, পাশাপাশি কাঠের কাজও শেখেন তিনি। কিন্তু করোনা মহামারীর সময় চাকরি হারিয়ে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন তিনি। সেই কঠিন পরিস্থিতিই তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে এবং শৈশবের শখকেই ব্যবসায় রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

আরও পড়ুন: দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকের আগে বড় শর্ত দিল ইরান! ফের ভেস্তে যাবে আলোচনা?

২০২০ সালে তিনি ‘ওডেয়ার আর্ট’ প্রতিষ্ঠা করেন। কাজ করতে করতেই শরৎ বুঝতে পারেন, ভারতে কাস্টমাইজড কাঠের কাজের বাজার বড় হলেও তা বেশ অসংগঠিত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি সিএনসি মেশিনিং ও লেজার কাটিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেন। সীমিত পুঁজি নিয়েও প্রতিটি কাজ নিখুঁতভাবে এবং সময়মতো সম্পন্ন করে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেন, যা তাঁর ব্যবসার ভিত্তি মজবুত করে তোলে।

২০২৩ সালে তার এই স্টার্টআপটির আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয় এবং দ্রুত জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। বর্তমানে সংস্থাটি কাঠ ও অ্যাক্রিলিকের নানা পণ্য তৈরি করে, যেমন কর্পোরেট সাইনবোর্ড, পুরস্কার, স্মারকচিহ্ন, প্রোটোটাইপ এবং কাস্টমাইজড আসবাবপত্র। ডিজাইন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পণ্য তৈরির পুরো প্রক্রিয়াই শরতের দল নিজস্বভাবে পরিচালনা করে, যা তাদের গুণমান ও ব্র্যান্ড পরিচিতি আরও শক্তিশালী করেছে।

Sharat Arav's Success Story will amaze you.

আরও পড়ুন: জম্মু-কাশ্মীরে বড়সড় দুর্ঘটনা, যাত্রীবোঝাই বাস খাদে পড়ে মর্মান্তিক পরিণতি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫

মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই সংস্থার অভাবনীয় বৃদ্ধি নজর কাড়ছে। ২০২৩ সালে যেখানে আয় ছিল প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা, সেখানে ২০২৫ সালের মধ্যে তা ২ কোটি টাকার গণ্ডি পেরিয়ে যায়। বর্তমানে তাঁর কাছে ১৬ জন কর্মী কাজ করছেন এবং ১,০০০-এরও বেশি গ্রাহককে পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। সরকারি উদ্যোগ ‘এলিভেট’-এর সহায়তায় আগামী দিনে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে দেশজুড়ে প্রযুক্তিনির্ভর কাঠের কাজের অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ড হয়ে ওঠাই শরৎ আরবের লক্ষ্য। শরতের এই সাফল্যের কাহিনি (Success Story) আবারও প্রমাণ করে যে নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির ভরে যেকোনও জয় হাসিল করা অবশ্যই সম্ভব।