বাংলাহান্ট ডেস্ক: কিছু সিদ্ধান্ত সত্যিই জীবন বদলে দেয়। শিবানীর সাফল্যের কাহিনি(Success Story)! তেমনই এক দৃঢ় সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। আর্থিক অনটন, পারিবারিক শর্ত এবং সামাজিক চাপ—সব কিছুর মধ্যেও নিজের স্বপ্ন থেকে একচুলও সরে যাননি তিনি। মধ্যপ্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (MPPSC) ২০২৪ পরীক্ষায় ১১তম স্থান অর্জন করে ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে শিবানী প্রমাণ করে দিলেন, সংকল্প থাকলে প্রতিকূলতাও পরাজিত হয়।
শিবানীর অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
এক সাক্ষাৎকারে শিবানী জানান, তিনি মধ্যপ্রদেশের হরদা জেলার সিরালি গ্রামের বাসিন্দা। একটি সাধারণ পরিবারে বড় হওয়া শিবানীর প্রাথমিক শিক্ষা গ্রামেরই সরকারি স্কুলে। দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পর উচ্চশিক্ষার আশায় ভোপালে পাড়ি দেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় জীবনের কঠিন লড়াই—নতুন পরিবেশ, সীমিত অর্থ এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।
আরও পড়ুন:গিগ কর্মীদের সুরক্ষায় তৎপর কেন্দ্র! বিজ্ঞাপনে আর নয় ১০ মিনিটে ডেলিভারির দাবি, কী জানাল সংস্থাগুলি?
পড়াশোনার পাশাপাশি সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন শিবানী। তবে কোভিড-১৯ অতিমারি তাঁর জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে। পারিবারিক আয়ের উপর চাপ বাড়ে, তৈরি হয় আর্থিক সংকট। তবুও লক্ষ্য থেকে সরে যাননি তিনি। একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলেও তাঁর স্বপ্ন ছিল প্রশাসনিক আধিকারিক হওয়া। এই সময়ে সমাজের নানা কটূক্তি ও বিয়ের চাপও বাড়তে থাকে।
২০২৩ সালে প্রথমবার MPPSC পরীক্ষায় বসে সফল হতে পারেননি শিবানী। কিন্তু সেই ব্যর্থতা তাঁকে দমাতে পারেনি। ২০২৪ সালে তিনি প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং মেইনসের প্রস্তুতির জন্য ইন্দোরে যান। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও—জ্বর নিয়ে—তিনি টানা ছয়টি মেইনস পরীক্ষা দেন। শরীর সঙ্গ না দিলেও মানসিক দৃঢ়তাই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: তৈরি থাকুন! ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গে রং বদলাবে আবহাওয়া, আগাম আপডেট দিল হাওয়া অফিস
এই কঠিন সময়ে পরিবারের তরফে শর্ত দেওয়া হয়—হয় বাড়িতে থেকে পড়াশোনা, নয়তো বিয়ে। কিন্তু শিবানী নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। অবশেষে ২০২৪ সালে MPPSC ফল প্রকাশিত হলে তিনি ১১তম স্থান অর্জন করে ডেপুটি কালেক্টর পদে নির্বাচিত হন। তাঁর এই সাফল্য শুধু একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার গল্প নয়, বরং সামাজিক ও মানসিক বাধা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে নিজের সংগ্রামের গল্প ভাগ করে নিয়ে শিবানী দেখিয়ে দিয়েছেন, সাহস আর অধ্যবসায় থাকলে কোনও সীমাবদ্ধতাই চূড়ান্ত নয়।













